নয়া জামানা ডেস্ক : গণতন্ত্রে ভোট দেওয়া নাগরিকের অধিকার, কিন্তু তা বাধ্যতামূলক করার এক্তিয়ার আদালতের নেই। বাধ্যতামূলক ভোটদানের আর্জি জানিয়ে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলা বৃহস্পতিবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোট দেওয়ার জন্য কাউকে জোর করা যায় না। আইনের শাসনে চলা দেশে সচেতনতা বৃদ্ধিই শ্রেষ্ঠ পথ, জবরদস্তি নয়। আদালত এদিন সাফ জানায়, ভোট না দিলে সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নেওয়া বা শাস্তির বিধান দেওয়া বিচারবিভাগের কাজ নয়। এটি সম্পূর্ণ নীতিনির্ধারণী বিষয়ের আওতায় পড়ে। মামলাটি খারিজ করে শীর্ষ আদালত জানায়, আবেদনকারী চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হতে পারেন। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘এই দেশ আইনের শাসনে চলে এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাস রাখে। গত ৭৫ বছর ধরে আমরা প্রমাণ করেছি যে, গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের কতটা আস্থা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রত্যেক নাগরিক ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন, এটাই প্রত্যাশিত। তবে কেউ যদি ভোট দিতে না যান, তো যাবেন না। এতে আমাদের কিছু করার নেই। এ ক্ষেত্রে শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা কাউকে ভোট দিতে বাধ্য করতে পারি না।’ দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রামের কথা মাথায় রেখেই আদালত এই কড়া অবস্থান নিয়েছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের প্রশ্ন, ‘যদি সমাজের দরিদ্র বা নিম্নবিত্ত কোনও মানুষ বলেন, ‘আমাকে তো দিনমজুরি করে পেট চালাতে হয়। এ অবস্থায় আমি কী ভাবে ভোট দিতে যাব?’ — আমরা তাঁদের কী উত্তর দেব!’ এমনকি ভোটের দিন অনেকের পেশাগত ব্যস্ততার দিকটিও তুলে ধরে আদালত। বিচারপতিরা জানান, ভোটের দিন অনেককেই কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়, যা তাঁদের কর্মদিবস হিসেবেই গণ্য হয়। ভোট না দেওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এক জন নাগরিক যদি ভোট দিতে না যান, তবে আমরা আর কী-ই বা করতে পারি? আমরা কি এখন নির্দেশ দেব যে, তাঁদের গ্রেফতার করা হোক?’ আদালতের মতে, আইনি খাঁড়া ঝুলিয়ে নয়, বরং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই গণতন্ত্রের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব। ইচ্ছাকৃতভাবে ভোট না দিলে সুযোগ-সুবিধা সীমিত করার যে দাবি মামলাকারী জানিয়েছিলেন, তাকেও বাস্তবসম্মত বলে মনে করেনি তিন বিচারপতির বেঞ্চ। আদালতের এই পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ একান্তই ব্যক্তিগত ইচ্ছার বিষয়।