নয়া জামানা, মালদহ: মালদহ জেলার পিছিয়ে পড়া এলাকা হিসেবে পরিচিত হরিশ্চন্দ্রপুর। শিক্ষা,স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে এই এলাকা আজও পিছিয়ে। বিধানসভা নির্বাচন- ২০২৬ দরজায় কড়া নাড়ছে। কিন্তু এলাকার উন্নয়ন নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছে অসন্তোষ। পিছিয়ে পড়া এলাকার উন্নয়নের জন্য চাই সৎ, উচ্চ শিক্ষিত ও যোগ্য প্রার্থী। কিন্তু হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার প্রার্থী তালিকা দেখে হতাশ এলাকাবাসী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এই বিধানসভার মোট প্রার্থী ১২ জন। এর মধ্যে শাসক দল তৃণমূলের প্রার্থী এমডি. মতিবুর রহমান তাঁর নির্বাচনী হলফনামাতে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন অষ্টম শ্রেণি, আর.এস পাবলিক জুনিয়র হাই স্কুল, গৌতম বুদ্ধ নগর, বিহার। বিজেপি প্রার্থী রতন দাসের হলফনামা অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতা সিনিয়র সেকেন্ডারি ( উচ্চ মাধ্যমিক সমতুল্য) উত্তীর্ণ এনআইওএস থেকে। সিপিএম প্রার্থী সেখ খলিলের হলফনামাতে উল্লেখ রয়েছে তিনি হরিশ্চন্দ্রপুর হাই স্কুল থেকে নবম শ্রেণি উত্তীর্ণ। কংগ্রেস প্রার্থী মোস্তাক আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা ডবল এম.এ। তিনি উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এবং বিএন মন্ডল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষায় এম.এ করেছেন। এই হল প্রধান চারটি দলের প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা। এছাড়াও এসইউসিআই প্রার্থী মোশারফ হোসেন এম.এ পাস, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ তোফাজ্জুল হক পিএইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করে কলেজে শিক্ষকতা করেন। তবে মূল ধারার পার্টি গুলোর প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জনমানসে প্রশ্ন বিদ্যমান। এলাকার সার্বিক উন্নয়নে এমন এক প্রার্থীকে বিধানসভায় পাঠানো দরকার যিনি বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এলাকার দাবি নিয়ে সরব হবেন। উচ্চ শিক্ষিত যোগ্য ব্যক্তি ছাড়া এই গুরু দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয় বলেই এলাকার বাসিন্দাদের অভিমত। এলাকার বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের স্বার্থে আইনি লড়াই করার জন্য শিক্ষিত প্রার্থীকে চায় এলাকাবাসী। এই প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, এলাকার শিক্ষার পরিকাঠামো দুর্বল,বিজ্ঞান বিভাগ অপ্রতুল। উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগের অভাব। স্বাস্থ্য পরিষেবাও বেহাল। এই প্রেক্ষাপটে হরিশ্চন্দ্রপুরের মূল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অনেক প্রার্থীই অষ্টম বা নবম শ্রেণি উত্তীর্ণ। এমন অযোগ্য ব্যক্তি এলাকার উন্নয়নে কিভাবে কাজ করবেন এই বিষয়ে সংশয় রয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দা আইন পড়ুয়া সাজিদ হাসান বলেন, এলাকার উন্নয়নে একজন শিক্ষিত ও দায়িত্বশীল প্রার্থী প্রয়োজন। যিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কর্মসংস্থান নিয়ে সোচ্চার হবেন। তিনি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত ও সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হবেন। বিশেষ করে যাদের নাম এসআই আর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছে তাঁদের পাশে দাঁড়াবেন।