নয়া জামানা ডেস্ক : ‘ক্ষমতায় এলে ধর্ষকদের সকালে জমা করব, বিকেলে খরচ করব’, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মালদহের গাজোল থেকে এভাবেই সুর চড়ালেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার গাজোলের জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে বিঁধে নারী সুরক্ষা প্রশ্নে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। আরজি কর থেকে হাঁসখালি একাধিক নারী নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে এদিন বিঁধেছেন প্রশাসনকে। স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিনীত গোয়েল বা সন্দীপ ঘোষের মতো কাউকেই রেয়াত করা হবে না। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁর চ্যালেঞ্জ, ‘নন্দীগ্রামে হারিয়েছিলাম, ভবানীপুরেও হারাব। এবার প্রাক্তন করে ছাড়ব।’ এদিন জনসভার আগে পদ্মশ্রী কমলি সোরেনের আশ্রমে গিয়ে তাঁকে প্রণাম জানান বিরোধী দলনেতা। তারপর পরিবর্তন রথে চড়ে পৌঁছন টোলসংলগ্ন ময়দানের সভাস্থলে। বক্তব্যের শুরুতেই মাতৃশক্তিকে কুর্নিশ জানিয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে শুভেন্দু বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংবিধানের এবিসিডি শেখানোর জন্য নতুন রাজ্যপাল আসছেন!’ সদ্য ইস্তফা দেওয়া রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ‘ভয় দেখানোর’ তত্ত্বকেও এদিন নস্যাৎ করে দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, এবারের নির্বাচন হবে অন্যরকম। বুথের ভেতরে তো বটেই, বাইরেও থাকবে ক্যামেরার কড়া নজরদারি। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়ে শুভেন্দুর তোপ, বাংলায় এখন কোনও নারী নিরাপদ নন। তাঁর কথায়, ‘আরজি করের ঘটনা আমাদের নাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষের চোখ দিয়ে জলের বদলে রক্ত বেরিয়েছে।’ পাল্টা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলারা মাসে তিন হাজার টাকা পাবেন এবং বেকার যুবতীদের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে। সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গেও এদিন নরম সুর শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়। শুভেন্দু বলেন, ‘ভারতীয় মুসলিমদের নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই।’ এদিন সিএএ-তে নাগরিকত্ব পাওয়া কয়েকজনকে মঞ্চে ডেকে মাল্যদান করে সংবর্ধনাও জানান তিনি। সভা শেষে মুখ্যমন্ত্রীর ‘রাস্তায় বসা’র অভ্যাসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘এপ্রিলের পর ওনাকে রাস্তাতেই বসতে হবে।’