শনিবার সকালে ধর্না মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । ছবি-সংগৃহিত ।
নয়া জামানা ডেস্ক : এপ্রিল নয়, আজ শনিবার থেকেই রাজ্যের কয়েক কোটি বেকার যুবক-যুবতীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চের দ্বিতীয় দিনে দাঁড়িয়ে এই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস। তার ঠিক আগের দিনই বেকারদের জন্য এই ‘উপহার’ ঘোষণা করলেন তিনি। রাজ্য বাজেটে এই প্রকল্পের কথা জানানো হলেও, তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল ১ এপ্রিল থেকে। কিন্তু রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী আজ থেকেই এই ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগে মমতার এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘১ এপ্রিল থেকে বলেছিলাম যুবসাথীর টাকা অ্যাকাউন্টে যাবে। কাল আন্তর্জাতিক নারী দিবস রয়েছে। তার উপহার হিসাবে ১ এপ্রিলের দিন পরিবর্তন করে, আজ, শনিবার থেকেই তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা যাবে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি ৯০ লক্ষ থেকে এক কোটি ছেলেমেয়েরা দরখাস্ত করেছেন, যাঁরা অন্য কোনও সাহায্য নেন না। বৃত্তিকে ধরছি না, পড়াশোনার জন্য সেই টাকা তাদের প্রাপ্য।’ এই প্রকল্পের আওতায় আবেদনকারীরা প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে পাবেন। প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর এই সুবিধা মিলবে, তারপর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
ধরনা মঞ্চ থেকে এদিন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান মমতা। রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সরব হয়ে তিনি বলেন, ‘গত কাল ৬০ টাকা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। তিন দিন আগে ৪৯ টাকা বাড়িয়েছে। বড় সিলিন্ডারের দাম ২১০০ টাকা। ছোট সিলিন্ডার ১০০০ টাকা হয়েছে। ২১ দিন আগে বুক করতে হবে। গ্যাস না থাকলে কার মাথা খেয়ে থাকবেন! এগুলো আগে ভাবা উচিত ছিল না কমরেডদের? ওদের কমরেড বলি। কমরেড শব্দ শ্রদ্ধা করি। বেনামী কমরেডদের নয়।’ গ্যাসের দাম বাড়ার প্রতিবাদে রবিবার রবিবারের মিছিলে মহিলাদের কালো শাড়ি পরে হাতা-খুন্তি হাতে শামিল হওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
বাংলার শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়েও এদিন একাধিক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, রাজ্যে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে। তথ্যপ্রযুক্তি থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সব ক্ষেত্রেই বাংলা এখন এক নম্বরে। মমতার কথায়, ‘তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে রাজ্য এক নম্বরে। বেঙ্গালুরুর থেকেও বেশি মানুষ এখানে কাজ করেন। ২০০টি সংস্থা নতুন করে এসেছে। যারা বাংলাকে নিয়ে বদনাম করে, তাদের জানা উচিত, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আমরা দেশে এক নম্বরে। চাকরি করে দেড় কোটি মানুষ। লেদার হাবে সাড়ে সাত লক্ষ মানুষ কাজ করেন।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, রাজ্যে ছ’টি ইকোনমিক করিডোর তৈরি হচ্ছে এবং দেওচা পচামি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এক লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘বিজেপি সাবধান। ভোট কেটে বাংলাকে করা যাবে না বিভাজন। বাংলা লড়াই করছে, করবে, করতে জানে। বেশি কিছু করলে তোমার দিল্লি সরকার ফেলে দেব, যাও!’ বাংলার সংস্কৃতি ও জিআই ট্যাগ নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। সীতাভোগ, মিহিদানা থেকে শুরু করে বালুচরী ও তুলাইপঞ্জি চালের জিআই স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করেন তিনি। কয়লা নীতির ক্ষেত্রেই কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ ও রাজ্যের সাফল্যের খতিয়ান দেন তিনি। ঋণ শোধের পাহাড়প্রমাণ চাপের মধ্যেও বাংলা জিডিপি ও পরিকাঠামোয় এগিয়ে রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যকে ভাগ করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ওদের ধান্দা বাংলাকে ভাগ করা। বিহারকে করেছে একবার। লুটেপুটে খাওয়া ওদের কাজ।’