নয়া জামানা ডেস্ক : উত্তাল মধ্যপ্রাচ্যে আগুনের লেলিহান শিখা আরও তীব্র হলো। কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পর এবার ইরানের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠল ওমান। ওমানের আল-জাইমা বন্দরে আছড়ে পড়ল একটি শক্তিশালী ইরানি ‘সুইসাইড’ ড্রোন। ড্রোনটির আঘাতে বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে এলাকাটি কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এই ঘটনায় ওমান জুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করে নি নয়া জামানা) দেখা গেছে, একটি ড্রোন প্রচণ্ড গতিতে ধেয়ে আসছে আল-জাইমা বন্দরের দিকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি বন্দরের একটি অংশে আঘাত হানে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও তার শব্দ শোনা গেছে। ঘটনার পরপরই বন্দরের একটি বড় অংশে আগুন ধরে যায়। দমকল বাহিনী ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তেহরান যে ‘কঠিন প্রতিশোধের’ হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, এই ধারাবাহিক হামলা তারই প্রতিফলন। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর ওপর হামলার পর থেকেই ইরান তার আক্রমণের পরিধি বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে ইরান।শুধু ওমান নয়, সোমবার সকাল থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক বড় শহরে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর রাজধানী আবু ধাবি, কাতারের দোহা এবং বাহরাইনের মানামাতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও আকাশপথেই অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো, কিন্তু সেই ধ্বংসাবশেষ লোকালয়ে আছড়ে পড়ায় বিভিন্ন স্থানে আগুন লেগে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।ইরানের এই ‘অল-আউট’ আক্রমণে কার্যত লন্ডভন্ড গোটা মধ্যপ্রাচ্য। মার্কিন হামলায় আহত ইরান এখন আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। কুয়েত ও আমিরশাহীর মতো অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো আক্রান্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে বড়সড় আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। ওমানের আল-জাইমা বন্দরের এই হামলা প্রমাণ করে দিল যে, কোনো দেশই এখন নিরাপদ নয়।পরিস্থিতিতে ওমান সরকার জরুরি বৈঠক ডেকেছে। অন্যদিকে, আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো ইরানের এই কর্মকাণ্ডের কড়া জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে।