নয়া জামানা ডেস্ক : চব্বিশের লোকসভা ভোটে উত্তরপ্রদেশে পদ্ম-শিবিরকে জোর ধাক্কা দিয়েছেন অখিলেশ যাদব। এবার লক্ষ্য ২০২৭। যোগী আদিত্যনাথকে গদিচ্যুত করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে সমাজবাদী পার্টি (সপা)। লখনউয়ের মসনদ ফিরে পেতে এবার পেশাদার ভোটকুশলী সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর শরণাপন্ন হলেন অখিলেশ। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ মেনেই এই মেগা চুক্তি সেরে ফেলেছে সপা। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৭-এর লড়াই অখিলেশের কাছে কার্যত অস্তিত্ব রক্ষার। গত ২০১৭ এবং ২০২২— পর পর দুটি বিধানসভা নির্বাচনে হারতে হয়েছে তাঁকে। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির আসন ৬৪ থেকে ৩৩-এ নামিয়ে এনে এবং নিজে ৩৭টি আসন জিতে অখিলেশ এখন আত্মবিশ্বাসী। তবে বিধানসভা ভোটের অঙ্ক যে আলাদা, তা ভালোই বোঝেন টিপু। তাই এবার কর্পোরেট ধাঁচে তথ্যভিত্তিক ও ন্যারেটিভ তৈরির লড়াইয়ে নামতে চাইছে সপা। ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লিতে আই-প্যাকের সঙ্গে অখিলেশের চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। নেপথ্যে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২৭ জানুয়ারি কলকাতায় এসে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন অখিলেশ, ডিম্পল যাদব ও কিরণময় নন্দ। সেই একান্ত বৈঠকেই মমতা তাঁকে আই-প্যাকের সাহায্য নেওয়ার পরামর্শ দেন। বাংলায় গত ২০১৯ থেকে তৃণমূলের একের পর এক সাফল্যের কান্ডারি এই সংস্থাই। বর্তমানে বাংলার আসন্ন বিধানসভা ভোটের কাজে তারা ব্যস্ত থাকলেও, উত্তরপ্রদেশের সোশ্যাল মিডিয়া প্রচার এবং এআই-এর মাধ্যমে অপপ্রচার রুখতে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে বিনেশ চন্দেলের নেতৃত্বাধীন দলটি। বাংলার ভোট মিটলেই পূর্ণশক্তিতে উত্তরপ্রদেশের মাঠে নামবে আই-প্যাক। আই-প্যাকের পাশাপাশি ‘শোটাইম’ নামক আরও একটি সংস্থাকে প্রচারের দায়িত্ব দিয়েছেন অখিলেশ। এই সংস্থাটি বর্তমানে মহারাষ্ট্রে একনাথ শিন্ডের রণকৌশল সামলাচ্ছে। চমকপ্রদ তথ্য হল, ভোটকুশলীর কাজ ছেড়ে রাজনীতিতে নামলেও প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গেও অখিলেশের একপ্রস্ত বৈঠক হয়েছে বলে খবর। তিনিও সপা-কে সাহায্য করতে পারেন বলে জল্পনা। ২০১২ সালে শেষবার উত্তরপ্রদেশে সরকার গড়েছিল সমাজবাদী পার্টি। সেবার ৪০৩টির মধ্যে ২২৪টি আসন জিতে অখিলেশকে মুখ্যমন্ত্রী করেছিলেন মুলায়ম সিংহ যাদব। কিন্তু তারপর থেকেই পতন শুরু। ২০১৭ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও আসন সংখ্যা নেমেছিল ৪৭-এ। ২০২২-এ ভোট শতাংশ বাড়লেও আসন এসেছিল ১১১টি। এবার হারানো জমি ফিরে পেতে মরিয়া সপা। আই-প্যাকের এক কর্তার কথায়, ‘এই মুহূর্তে আমাদের বেশিরভাগ কর্মী বাংলায় ব্যস্ত। তাই আমরা সোশাল মিডিয়াটার প্রচারটা দেখছি। বাংলার ভোটের পরই পুরোপুরি মাঠে নেমে পড়ব প্রচারে।’ বিজেপিকে রুখতে লখনউয়ের ময়দানে এখন থেকেই যুদ্ধের নকশা তৈরি শুরু করে দিলেন অখিলেশ। ফাইল ফটো ।