নয়া জামানা ডেস্ক : তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ইজরায়েল সফরে গিয়েই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ঐতিহাসিক বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ভারত ও ইজরায়েল খুব শীঘ্রই একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে। একইসঙ্গে ভারতীয় প্রযুক্তির বিশ্বায়ন ঘটিয়ে ইজরায়েলে ‘ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস’ বা ইউপিআই পরিষেবা চালু করার বিষয়েও দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।বৃহস্পতিবারের যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন,আমরা একটি পারস্পরিক উপকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়িত করতে নিরলস কাজ করছি। আশা করছি খুব শীঘ্রই এই চুক্তি চূড়ান্ত হবে। ইউপিআই পরিষেবা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের আর্থিক সংযোগ ও পর্যটন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, ইজরায়েলের মতো উন্নত প্রযুক্তির দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ভারতের প্রতিরক্ষা, কৃষি ও জল সংরক্ষণ খাতে বিনিয়োগের নতুন দরজা খুলে দেবে।এদিন ইজরায়েলের সংসদ ‘কেনেসেট’-এ দাঁড়িয়ে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাষণ দেন নরেন্দ্র মোদি। ভাষণের শুরুতেই তিনি দুই দেশের আবেগকে স্পর্শ করে বলেন, ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক রক্ত দিয়ে লেখা। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সঙ্গে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার তুলনা টেনে তিনি বলেন, জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত হওয়ার যন্ত্রণা ভারত খুব ভালোভাবেই জানে। তবে ইজরায়েলের পাশে দাঁড়ালেও গাজায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। কেনেসেটে দাঁড়িয়েই তিনি গাজায় শান্তি ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করে বলেন, শান্তির পথ সহজ নয়, কিন্তু এই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে ভারত আগ্রহী। আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব।মোদির এই সফর যখন সফল বলে দাবি করা হচ্ছে, ঠিক তখনই ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান। কেন্দ্রীয় বাজেটে চাবাহার বন্দরে শূন্য বরাদ্দ রাখা নিয়ে তেহরান ইতিমধ্যেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের এই ঘনিষ্ঠতাকে ভালো চোখে দেখছে না কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, চাবাহার ইস্যুতে ইরান এমনিতেই রুষ্ট, তার ওপর এই বাণিজ্য চুক্তি ভারত-ইরান সম্পর্ককে তলানিতে নিয়ে যেতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ বজায় রাখা এখন নয়াদিল্লির কাছে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।বিশেষজ্ঞদের একাংশ মোদির এই সফরকে ভারসাম্যের সফর হিসেবে দেখছেন। একদিকে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত জোট মজবুত করা, অন্যদিকে গাজা ইস্যুতে মানবিক অবস্থান বজায় রাখা এই দ্বিস্তরীয় নীতি ভারত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পালন করছে। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে নয়াদিল্লির ভবিষ্যৎ সমীকরণ কোন দিকে এগোবে, তার অনেকটাই নির্ভর করছে এই সফরের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সফরকে কেন্দ্র করে যে কূটনৈতিক ঝঞ্ঝা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, তার মধ্যেই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের যে বার্তা তিনি দিলেন, তা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব আরও বৃদ্ধি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন-
মুর্শিদাবাদে এবার বিড়ি শ্রমিকদের জন্য রাজ্যে, প্রথম হাসপাতাল, বুধে সামশেরগঞ্জে উদ্বোধন