নয়া জামানা,পানিহাটি: পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের দিন সকাল থেকেই নজর কাড়লেন বিজেপি প্রার্থী তথা আরজি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মা। বুধবার সকালে নাটাগড় সংঘের বুথে ভোট দিতে এসে আবেগঘন মন্তব্য করেন তিনি। ভোট দিয়ে বেরিয়ে চোখে জল নিয়ে বলেন, “গতবার আমরা তিন জন একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছিলাম। এ বার তো আর মেয়ে নেই।” তাঁর এই কথায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
ভোট দেওয়ার পর তিনি জানান, মেয়ের উপর হওয়া নৃশংস অত্যাচারের বিচার আদায় করতেই তিনি রাজনীতির ময়দানে নেমেছেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ যাতে সত্যিটা জানতে পারেন এবং দোষীরা শাস্তি পায়, সেই লক্ষ্যেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, “এই লড়াই শুধু আমার পরিবারের নয়, বাংলার প্রতিটি মেয়ের নিরাপত্তার লড়াই।”
বিজেপি প্রার্থী আরও বলেন, আরজি কর কাণ্ডের শিকড় কত গভীরে রয়েছে, তা সামনে আনতেই তিনি মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। ভোটের ফল প্রকাশের দিন ৪ মে মানুষই জবাব দেবেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “মানুষ আমাদের পাশে আছেন কি না, তা খুব শিগগিরই বোঝা যাবে।”
ভোট দেওয়ার সময় ইভিএম নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, বোতাম চাপার পর অনেক দেরিতে শব্দ হচ্ছিল। বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভোটকর্মীদের জানান। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ ও অবাধভাবে সম্পন্ন হয়, সেটাই তাঁর প্রধান কামনা। ভোটকে কেন্দ্র করে কোথাও অশান্তি বা হানাহানির ঘটনা না ঘটুক বলেও আবেদন জানান তিনি।
এরই মধ্যে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী জমায়েত করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন বলে খবর পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে জমায়েত সরিয়ে দেয় বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, সকাল থেকেই পানিহাটির বিভিন্ন বুথে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তকে। বিভিন্ন বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন এবং উৎসাহও নজরে পড়ে। সব মিলিয়ে পানিহাটি কেন্দ্রে ভোটের দিন জমজমাট রাজনৈতিক লড়াইয়ের ছবি স্পষ্ট।