নয়া জামানা, কলকাতা : আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফের ‘ট্রাবল মেকার’ তালিকায় কোপ বসাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই গুরুতর অভিযোগ তুলেই মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের শাসকদলের দাবি, আদালতের রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলের প্রায় ৩৫০০ জন কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। শেষ দফার ভোটের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের আইনি লড়াই চরমে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। তৃণমূলের সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও তালিকা প্রকাশ করে ৩৫০০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে কমিশন। এই প্রেক্ষিতেই দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছেন তিনি। মূলত প্রথম দফার মামলার রায়কে অগ্রাহ্য করার অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে। ভোটের আগে অশান্তি রুখতে ‘ট্রাবল মেকার’ বা গোলমাল পাকানোর আশঙ্কায় থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারির নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। সেই নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে দ্বিতীয় দফার দু’দিন আগে পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে মোট ১৫৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারির নিরিখে সবার উপরে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা, সেখানে গ্রেফতার ৪৭৯ জন। এ ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনায় ৩১৯ জন, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৪৬ জন, হুগলিতে ৪৯ জন এবং নদিয়ায় ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঢালাও এই গ্রেফতারি নিয়ে এর আগেই কড়া অবস্থান নিয়েছিল হাই কোর্ট। প্রথম দফার ভোটের আগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলার প্রেক্ষিতে আদালত জানিয়েছিল, শুধুমাত্র ‘ট্রাবল মেকার’ তকমা দিয়ে নির্বিচারে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা সীমাহীন নয়। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সেই সময় জানিয়েছিল, ‘শুধুমাত্র ‘ট্রাবল মেকার’ বলে চিহ্নিত করে ঢালাও নির্দেশ দেওয়া প্রাথমিক ভাবে ভুল। নাগরিকের স্বাধীনতা শুধুমাত্র আইন অনুযায়ীই সীমিত করা যায়। কেউ যদি অপরাধ করে, পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। সতর্কতামূলক ভাবে কাউকে আটক করতে হলেও নির্দিষ্ট বিধি মেনেই করতে হবে।’ এই স্থগিতাদেশের পরেও কেন কমিশন ফের সক্রিয় হল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। শেষ দফার আগে হাই কোর্টের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কমিশনের এমন পদক্ষেপে তৃণমূলের ৮০০ কর্মীকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল আগের দফাতেই। এবার ৩৫০০ জনের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপের অভিযোগ মামলার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিল।