নয়া জামানা, কলকাতা : সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে ফের বদলে গেল বাংলার ভোটার তালিকা। ট্রাইবুনালে আবেদনের নিষ্পত্তি হওয়ার পর নতুন করে ১৪৬৮ জনের নাম যুক্ত করল নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালতের বিশেষ ছাড়পত্র মেলায় বুধবার দ্বিতীয় দফার লড়াইয়ে এই নতুন ভোটাররা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। তালিকায় এই বিপুল সংযোজনের পাশাপাশি ৬ জনের নাম বাদও দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাজ্যের সাত জেলার ১৪২টি আসনে মেগা নির্বাচন। কমিশনের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ভোটের নির্দিষ্ট সময় আগে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ বা স্থির হয়ে যায়। তবে এবারের ভোটে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এক বিশেষ সংস্থান রাখা হয়েছিল। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, ‘ভোটের দু’দিন আগেও ট্রাইবুনাল যে সমস্ত নামের নিষ্পত্তি করবে এবং যাঁদের ভোটার হিসাবে ছাড়পত্র দেবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।’ মূলত সোমবার পর্যন্ত চলা আইনি লড়াই ও আবেদনের ফয়সালার ভিত্তিতেই এই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন বা ‘হোল্ড’ তালিকায় ছিল। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের স্ক্রুটিনিতে বহু নাম ‘অযোগ্য’ ঘোষিত হয়েছিল। সেই সময় আদালত জানিয়েছিল, সংক্ষুব্ধ ভোটাররা চাইলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। সেই ট্রাইবুনালেই নিজেদের নথিপত্র পেশ করে শেষ পর্যন্ত ‘পাশ’ করেছেন এই ১৪৬৮ জন নাগরিক। এর আগে প্রথম দফার ভোটের আগেও একইভাবে আদালতের নির্দেশে ১৩৯ জন ভোটারের নাম যুক্ত হয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ধাপে ধাপে এই অতিরিক্ত নাম সংযোজন চলছে। বুধবার কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া এবং পূর্ব বর্ধমানের বুথগুলিতে এই নতুন ভোটাররা ভোট দেবেন। আদালতের কড়া নজরদারিতে শেষ মুহূর্তে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ায় স্বস্তিতে কয়েক হাজার পরিবার। দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ ভোটের আগে কমিশনের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তালিকা থেকে শেষ মুহূর্তে আট জনের নাম মুছেও দেওয়া হয়েছে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে। সব মিলিয়ে শেষ লগ্নেও সরগরম ভোটার তালিকা।