নয়া জামানা ডেস্ক : অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অপসারণের প্রস্তাব আলোচনার জন্য গৃহীত হল নিম্নকক্ষে। মঙ্গলবার অধিবেশন শুরু হতেই কংগ্রেস সাংসদ মহম্মদ জাভেদ, কে সুরেশ এবং মাল্লু রবি স্পিকারকে সরানোর নোটিসটি পড়ে শোনান। অন্তত ১১৮ জন সাংসদের সমর্থন মেলায় ভোটাভুটির পর প্রস্তাবটি আলোচনার জন্য গ্রহণ করেন সভার তৎকালীন সভাপতি জগদম্বিকা পাল। ১০ ঘণ্টা সময় বরাদ্দ করা হয়েছে এই বিতর্কের জন্য। বিতর্কের শুরুতেই গর্জে ওঠেন কংগ্রেসের উপ-দলনেতা গৌরব গগৈ। তাঁর আক্রমণের তির ছিল সরাসরি স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে। গগৈয়ের অভিযোগ, ‘এখানে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। খোদ বিরোধী দলনেতাকে বলতে দেওয়া হয় না। তাঁর মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়।’ এমনকি শশী থারুরের মতো সাংসদের বক্তৃতার মাঝপথেও মাইক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ আনেন তিনি। জওহরলাল নেহরুর প্রসঙ্গ টেনে গগৈ প্রশ্ন তোলেন, ‘অধ্যক্ষ সভার গৌরবের প্রতিনিধি। কিন্তু এখন সেই স্বাধীনতা কোথায়?’ পাল্টা আসরে নামে বিজেপিও। সংসদীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু সরাসরি রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে বলেন, ‘স্পিকারকে অপমান করা হচ্ছে। বিরোধী দলনেতা মনে করেন তাঁর বলতে কারও অনুমতি লাগে না। অথচ নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের অনুমতি বাধ্যতামূলক।’ জগদম্বিকা পালের সভাপতিত্ব করা নিয়ে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং সৌগত রায় প্রশ্ন তুললে রিজিজু তা ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে উড়িয়ে দেন। মূল বিবাদের মূলে রয়েছে বাজেট অধিবেশনের বেশ কিছু ঘটনা। বিরোধী শিবিরের দাবি, ওম বিড়লা মহিলা সাংসদদের নিয়ে ভিত্তিহীন ও ‘পিতৃতান্ত্রিক’ মন্তব্য করেছেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীকে লোকসভায় আসতে নিষেধ করে তিনি পক্ষপাতিত্বের চরম সীমা লঙ্ঘন করেছেন বলেও তোপ দাগেন গগৈ। তাঁর কথায়, ‘২০২৬ সালের এই ঘটনা আইনের দিক থেকে নজিরবিহীন।’ সব মিলিয়ে স্পিকারের চেয়ার ঘিরে মঙ্গলবার সংসদীয় গণতন্ত্রের এক উত্তপ্ত লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল দেশ।