নয়া জামানা ডেস্ক : তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘উদার’ তকমা দিয়েও সুর চড়ালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের মেজাজ স্পষ্ট করে তিনি জানিয়ে দিলেন, নেত্রীর মতো অতটা উদার তিনি নন। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে নির্বাচনী জনসভা থেকে এভাবেই বিজেপি-কে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। আগামী ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পর প্রতিটি ‘অত্যাচারের হিসাব’ নেওয়ার কড়া বার্তাও দিয়েছেন তিনি। সবংয়ের এই জনসভার মূলে ছিল একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। স্থানীয় হরিজনপল্লির এক দু’বছরের শিশু বিজেপির পোস্টার ছিঁড়ে দেওয়ায় তার মায়ের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, শিশুটির চোখের সামনেই তার মাকে হেনস্থা করা হয়। এই ঘটনার রেশ টেনেই অভিষেক বলেন, ‘এই ঘটনায় অভিযুক্ত আট জনের নাম আমার কাছে রয়েছে। একজন গ্রেফতার হয়েছে। এখন প্রশাসন কমিশনের অধীনে থাকলেও ৪ তারিখের পর অভিযুক্তদের ওই মহিলা ও তাঁর শিশুর কাছে ক্ষমা চাইতেই হবে।’ সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এখন জার্সি বদলে বিজেপি করছে বলে দাবি করেন অভিষেক। কড়া সুরে তিনি জানান, ‘বিজেপি নেতাদের বলব, লম্ফঝম্প করে শান্তি নষ্ট করলে ৪ তারিখের পর রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে ডিজে-ও বাজবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদার, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত উদার নয়। যারা অত্যাচার করেছে, ৪ তারিখের পর তাদের বাংলার ক্ষমতা বোঝাব।’ এমনকি ঘাড় ধরে ক্ষমা চাওয়ানোর চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি। এদিন তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়ার প্রশংসা করার পাশাপাশি বিজেপির অমল পণ্ডাকে স্বার্থান্বেষী বলে আক্রমণ করেন অভিষেক। সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ‘অমিত শাহের বুকের পাটা থাকলে ৪ তারিখ দুপুর ১২টার পর কলকাতায় থাকুন। খেলা শুরু করেছে বিজেপি, শেষ করব আমরা।’ অন্য দিকে, উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের সভা থেকেও সন্দেশখালি ইস্যুতে বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্রকে নিশানা করেন তিনি। তবে যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি একে তৃণমূলের তৈরি ‘ফেক ভিডিও’ ও সাজানো ঘটনা বলে দাবি করেছে। ছবি সংগৃহিত।
যোগ্য অফিসারদের দিয়ে ভোট হোক, কমিশনের রদবদল নিয়ে মত শুভেন্দুর