• Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • ভোটের আগে আয়কর হানায় তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি, কোচবিহার থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা

ভোটের আগে আয়কর হানায় তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি, কোচবিহার থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা

প্রদীপ কুন্ডু ৷৷ নয়া জামানা ৷৷ কোচবিহার: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়কর দপ্তরের হানা রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল ঝড় তুলেছে। শুক্রবার ভোরে শুরু হওয়া এই তল্লাশি অভিযান ঘিরে....

ভোটের আগে আয়কর হানায় তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি, কোচবিহার থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মমতা

প্রদীপ কুন্ডু ৷৷ নয়া জামানা ৷৷ কোচবিহার: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রে তৃণমূল....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


প্রদীপ কুন্ডু ৷৷ নয়া জামানা ৷৷ কোচবিহার: বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়কর দপ্তরের হানা রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল ঝড় তুলেছে। শুক্রবার ভোরে শুরু হওয়া এই তল্লাশি অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত চরমে পৌঁছয়। বিরোধীদের অভিযোগ—ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে শাসক দলের উপর।
এই ঘটনায় সরব হন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কোচবিহারের রাসমেলা মাঠে এক জনসভা থেকে তিনি সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টি-কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, রাজনৈতিক ময়দানে লড়াইয়ের সাহস না থাকায় বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর কণ্ঠে ছিল তীব্র ক্ষোভ—নির্লজ্জ, বেহায়া একটা রাজনৈতিক দল… ভীতু, কাপুরুষ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ভোটের আগে তৃণমূলকে কোণঠাসা করতে আয়কর দপ্তর, ইডি ও সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে নামানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নরেন্দ্র মোদী-কে কটাক্ষ করে নোটবন্দির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কালো টাকা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি কোথায় গেল—সেই প্রশ্নের জবাব আজও অধরা।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা দেবাশিস কুমারের বাসভবনে পৌঁছন। পাশাপাশি মনোহরপুকুরে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয় এবং শ্বশুরবাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয় বলে জানা গেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নিয়মবিরুদ্ধভাবে কার্যালয়ে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে। একই দিনে দক্ষিণ কলকাতার আরেক তৃণমূল নেতার বাড়িতে ইডির অভিযানের খবরও সামনে আসে, যা বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।
জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, বিজেপি বুঝে গিয়েছে যে সাধারণ মানুষের ভোটে তারা জিততে পারবে না। তাই প্রশাসনিক ও কেন্দ্রীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে চাইছে। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—সেন্ট্রাল ফোর্স, ইনকাম ট্যাক্স, ইডি, সিবিআই—সব নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও আমরা লড়াই করছি।
তবে চাপের কাছে নতি স্বীকার করার প্রশ্নই ওঠে না—এ কথা জোর দিয়ে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ তৃণমূলের পাশেই রয়েছে এবং সেই জনসমর্থনই তাঁদের আসল শক্তি। আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি ঘোষণা করেন, যাই করুক না কেন, বাংলায় আবার আমাদের সরকারই আসছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আয়কর অভিযান ও তার জেরে শুরু হওয়া তীব্র বাকযুদ্ধ নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন নজর বিজেপির পাল্টা প্রতিক্রিয়া এবং শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে এই ইস্যুর প্রতিফলনের দিকে।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর