নয়া জামানা ডেস্ক : নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সংসদে পেশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সমর্থন জানালেও আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন নিয়ে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দমদমের নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণে তৃণমূলের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে, কিন্তু তার আড়ালে ডিলিমিটেশন বিল এনে জনবিন্যাস বা রাজনৈতিক মানচিত্র বদলের চেষ্টা করলে তা মানা হবে না। মমতার অভিযোগ, মহিলা বিলকে ‘শিখণ্ডী’ করে আসলে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করতে চাইছে বিজেপি, যার নেপথ্যে রয়েছে দক্ষিণ ভারতের তুলনায় উত্তর ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির কৌশল। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, ‘মহিলা বিল আমরা সমর্থন করব। কিন্তু তার সঙ্গে অন্য কিছু আনতে যেয়ো না। ডিলিমিটেশনকে সমর্থন নয়।’ তৃণমূল নেত্রীর দাবি, বঙ্গভঙ্গ বা দেশভাগের কোনও ছক এই ডিলিমিটেশনের আড়ালে লুকিয়ে থাকলে তা রুখে দেওয়া হবে। বাংলার পঞ্চায়েত ও পুরসভায় ইতিমধ্যে ৫০ শতাংশ এবং লোকসভায় তৃণমূলের ৩৭ শতাংশ মহিলা প্রতিনিধিত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘মহিলাদের এত অসম্মান কোরো না।’ মূলত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংশোধন এবং আসন পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে কেন্দ্র যা করতে চাইছে, তাকে ‘দেশ টুকরো করার পরিকল্পনা’ বলে তোপ দাগেন তিনি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা নিয়েও এদিন সুর চড়ান মমতা। রাসবিহারীর বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে আয়কর হানার তীব্র নিন্দা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘বিজেপির সরাসরি লড়াইয়ের হিম্মত নেই?’ ভোটের মুখে প্রার্থীর প্রচার আটকানোকে সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা বলে দাবি করেন তিনি। মহানায়ক উত্তম কুমারের পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘দেবাশিস রাসবিহারীর বিধায়ক। ওঁর মেয়ের সঙ্গে উত্তম কুমারের ছেলের বিয়ে হয়েছে। তাঁর বাড়ি, তাঁর অফিসেও হানা দিয়েছে! ব্যক্তিগত কিছু থাকলে ভোটের পরে করতে পারত!’ এজেন্সির এই ‘অপব্যবহার’ নিয়ে বিজেপির উদ্দেশে তাঁর পাল্টা হুঁশিয়ারি, ‘কাল যখন ক্ষমতায় থাকবে না, এই হানাগুলো যখন তোমাদের বাড়িতে হবে, তখন সামলে নিও।’ বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, কেন ব্যর্থতার দায়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে না? তল্লাশির নামে সাধারণ মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগ তুলে বিদ্রুপের সুরে তিনি বলেন, ‘মহিলারা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে, ওরা ব্যাগ খুলে দেখছে! আমি ভাবি, কী খুঁজছে? লিপস্টিক খুঁজছে?’ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে মমতা জানান, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা এজেন্সির ভয় দেখানো— সবকিছুরই মোকাবিলা করবেন তিনি। বাংলা দখলের মরিয়া চেষ্টাকে প্রতিহত করার ডাক দিয়ে মমতা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও মনীষীদের এই বাংলায় বিজেপির ছক সফল হবে না। চেয়ারের মোহ নেই দাবি করে তিনি ঘোষণা করেন, ‘দুরন্ত খেলা হবে। বাংলা জয় করে দিল্লিকে জয় করব, কথা দিলাম।’ মানুষের ওপর হওয়া অত্যাচারের বদলা রাজনৈতিকভাবেই নেওয়া হবে বলে দমদম থেকে কেন্দ্রকে চূড়ান্ত বার্তা দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ছবি সংগৃহিত।
সেলিম-অধীরকে সমর্থন, বামেদের বিদায়, মুর্শিদাবাদে কি কিংমেকার ‘বিদ্রোহী’ হুমায়ূন ?