নয়া জামানা ডেস্ক : বাংলার ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ যাওয়া নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতায় এবার নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক নির্দেশে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিল, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন বাতিল হলে সেই অভিযোগ বা আপিল শোনার জন্য একটি বিশেষ ‘অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল’ গঠন করতে হবে। এই ট্রাইব্যুনালের মাথায় থাকবেন কোনো হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। সঙ্গে থাকবেন আরও কয়েকজন প্রাক্তন বিচারপতি। বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি মহাদেবনের তিন সদস্যের বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোটারদের অধিকার রক্ষায় বিচারবিভাগীয় নজরদারিই শেষ কথা বলবে।
রাজ্যের এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন মামলায় মঙ্গলবার একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষের বেশি নামের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কাজ এখানেই শেষ নয়। লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি বা যুক্তিগত অসঙ্গতির কারণে যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য একটি অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য— উভয় পক্ষই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন জানাতে পারবে। নাম বাদ পড়া আমজনতার শেষ ভরসা হিসেবে কাজ করবে প্রস্তাবিত এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই ট্রাইব্যুনাল বা বেঞ্চ গঠনের পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা অন্য বিচারপতি অথবা প্রতিবেশী রাজ্যের হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতিদের নিয়ে এই বিশেষ বেঞ্চ তৈরি হবে। একটি বেঞ্চে কতজন সদস্য থাকবেন, তা ঠিক করার এক্তিয়ারও দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকেই। এই গোটা প্রক্রিয়ার আর্থিক দায়ভার বহন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য হবে নির্বাচন কমিশন।’
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই ট্রাইব্যুনাল বা বেঞ্চ গঠনের পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা অন্য বিচারপতি অথবা প্রতিবেশী রাজ্যের হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বা বিচারপতিদের নিয়ে এই বিশেষ বেঞ্চ তৈরি হবে। একটি বেঞ্চে কতজন সদস্য থাকবেন, তা ঠিক করার এক্তিয়ারও দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকেই। এই গোটা প্রক্রিয়ার আর্থিক দায়ভার বহন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য হবে নির্বাচন কমিশন।’
মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রিপোর্ট দিয়ে জানান, ৯ মার্চ পর্যন্ত ১০ লক্ষ ১৬ হাজার নামের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, জুডিশিয়াল অফিসার এবং হাইকোর্টকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সংশ্লিষ্ট বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে রাজ্য সরকারকে। হাইকোর্ট সূত্রে জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণের কাজে বিচারকরা দিনরাত এক করে পরিশ্রম করছেন। বাতিল করা হয়েছে তাঁদের সব ছুটিও।
কমিশনকে সতর্ক করে আদালত জানিয়েছে, বিচারবিভাগীয় কাজে যেন কোনোভাবেই বাধা সৃষ্টি করা না হয়। প্রয়োজনে অফিসারদের জন্য নতুন লগ-ইন আইডি তৈরি করে দিতে হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সবরকম সাহায্য করতে কমিশন দায়বদ্ধ। পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা নিয়ে চলা এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য সুপ্রিম কোর্টের। আদালতের এই কড়া বার্তার পর ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এক নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।