নয়া জামানা, কলকাতা: তিলজলার অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দেখতে সম্প্রতি পার্কসার্কাসের ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। কিন্তু হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতরে যত্রতত্র নোংরা গজের টুকরো, রক্তমাখা তুলো এবং ব্যান্ডেজ পড়ে থাকতে দেখে প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরিষেবার এই বেহাল দশা দেখে অনতিবিলম্বেই হাসপাতালের সুপারকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন মন্ত্রী। এই ঘটনার রেশ পৌঁছায় স্বাস্থ্য ভবনের শীর্ষস্তরেও। মন্ত্রীর অসন্তোষের জেরে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম কলকাতার পাঁচটি প্রধান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও সুপারদের জরুরি তলব করেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে ন্যাশনাল মেডিকেলের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডাঃ অর্ঘ্য মৈত্রকে চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। সুপার যখন হাসপাতালের শূন্যপদের সমস্যার কথা তুলে ধরার চেষ্টা করেন, তখন স্বাস্থ্যসচিব স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে তা লিখিতভাবে জানাতে।
বৈঠকে উপস্থিত ১০ জন স্বাস্থ্যকর্তাকে সাফ জানানো হয়েছে, সরকারি হাসপাতালে পরিষেবার গাফিলতি বা অপরিচ্ছন্নতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সুপার ও সহকারী সুপারদের প্রতিদিন নিয়ম করে ওয়ার্ড রাউন্ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, রাজ্যে শীঘ্রই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু হতে চলেছে। সেই কারণে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা বিধায়করা যেকোনো সময় হাসপাতাল পরিদর্শনে আসতে পারেন। তাই সরকারি হাসপাতালগুলিকে সর্বক্ষণ ‘টিপটপ’ রাখার কড়া বার্তা দিয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব। মূলত মন্ত্রীর পরিদর্শনের পর হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থা ঢাকতেই স্বাস্থ্য ভবন এখন বাড়তি তৎপরতা দেখাচ্ছে।