টিনা প্রামাণিক, নয়া জামানা : রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দালালরাজ নির্মূল করতে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো এসএসকেএম (পিজি) হাসপাতালে স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে কার্যত দুর্গের চেহারা নেয় পিজি হাসপাতাল চত্বর। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি নিরাপত্তার দায়িত্বে মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংয়ের আটতলায় আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা, স্বাস্থ্য অধিকর্তা (শিক্ষা) এবং কলকাতা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও সুপাররা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধাননগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক ইন্দ্রনীল খান এবং পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা।
বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি না হলেও তাঁর সরকারের কড়া বার্তার কথা জানান দুই চিকিৎসক-বিধায়ক ইন্দ্রনীল খান ও শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এদিনের বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য ছিল সরকারি হাসপাতালে পরিষেবার মানোন্নয়ন এবং অসাধু চক্রের দাপট বন্ধ করা। জানা গিয়েছে, হাসপাতালে দালালরাজ রুখতে রাজ্য সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। কোনোভাবেই সাধারণ রোগীদের হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও আধুনিক ও সহজলভ্য করতে একগুচ্ছ নতুন পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে এই বৈঠকে। এর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হলো একটি কেন্দ্রীয় ‘বেড পুল’ তৈরি করা। রাজ্য সরকারি, কেন্দ্র সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালের একাংশকে নিয়ে এই পুল গঠিত হবে, যা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটর করা হবে। এর ফলে কোন হাসপাতালে কয়টি বেড খালি আছে, তা সাধারণ মানুষ সহজেই জানতে পারবেন এবং রেফার করার সমস্যা কমবে। পাশাপাশি, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনতে এবং রোগীদের দ্রুত পরিষেবা দিতে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সব মিলিয়ে, দায়িত্ব নিয়েই রাজ্যের ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে মুখ্যমন্ত্রী যে অত্যন্ত তৎপর, এদিনের বৈঠক তারই প্রমাণ দিল। উডবার্ন ও অ্যাকাডেমিক বিল্ডিং চত্বরে ভিড় করা সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই নতুন পদক্ষেপ ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গিয়েছে।