নয়া জামানা, কলকাতা : ‘আমি সারা বাংলায় দৌড়াচ্ছি, আমার ঘর তোরা সামলাস’— দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আর্জি কানে পৌঁছতেই কোমর বেঁধে নেমে পড়ল ঘাসফুল শিবির। দক্ষিণ কলকাতার হাইভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুরে জয়ের ব্যবধান বাড়াতে সোমবার থেকেই প্রচারে ঝাঁপালেন কলকাতার মেয়র তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সঙ্গে ছিলেন তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিমও। সকালেই চেতলার অলিগলিতে ঘুরে জনসংযোগ সারেন তিনি। তাঁর দাবি, শুভেন্দু অধিকারী এই কেন্দ্রে কোনও ‘ফ্যাক্টর’ নন। রবিবার ভবানীপুরের কর্মিসভায় মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ভোটের মরসুমে তাঁকে গোটা রাজ্য চষতে হবে। তাই নিজের ঘরের দায়িত্ব তিনি সঁপে দিয়েছেন অনুগত সৈনিকদের ওপর। নেত্রীর সেই নির্দেশ পাওয়ার চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এলাকা দাপিয়ে বেড়ালেন ফিরহাদ। নেত্রীর হয়ে ভোট চেয়ে ফিরহাদ বলেন, ‘এখানকার মানুষকে আমি যতদূর জানি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের ঘরের মেয়ে। সুতরাং, চেতলা, আলিপুর, ভবানীপুর প্রত্যেক এলাকার মানুষ ভাবেন মমতাদি আমাদের নিজেদের।’ ফিরহাদের মতে, এই কেন্দ্রে তৃণমূল নেত্রীর আলাদা কোনও পরিচয়ের প্রয়োজন নেই। তিনি যোগ করেন, ‘মমতাদি এখানে জন্মেছেন, বড় হয়েছেন। কয়েকশো স্কুল-কলেজের বন্ধু রয়েছেন এখানে। এখানে আমার আলাদা কিছু নেই। শুধু মানুষের কাছে গিয়ে বলছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, আপনারা ভোট দেবেন।’ রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবার ভবানীপুরে প্রার্থী হয়ে মমতাকে হারানোর হুঙ্কার দিয়েছেন। তবে সেই চ্যালেঞ্জকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল নেতৃত্ব। ফিরহাদের পাল্টা দাবি, মানুষ সবসময় তৃণমূলের সঙ্গেই থাকেন। অন্যদিকে, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই কেন্দ্র নিয়ে কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিছক জয় নয়, বরং অন্তত ৬০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে তৃণমূলকে এখানে জিততে হবে। আত্মতুষ্টি ঝেড়ে ফেলে সংগঠিত ভাবে লড়াই করার জন্য দলের প্রতিটি স্তরের কর্মীকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আপাতত ‘ঘরের মেয়ে’ মমতাকে বিপুল ভোটে জেতাতে ভবানীপুরের ময়দানে এখন চড়া রোদেও ঘাম ঝরাচ্ছেন ফিরহাদ হাকিমরা।