সায়ন ভান্ডারী, নয়া জামানা, বীরভূম: বীরভূমে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) সহ একাধিক দাবিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শ্রমিক ও শিক্ষকদের ডাকা ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উত্তেজনা ছড়ায়। রাজ্য সরকারি শ্রমিক–কর্মচারী ও শিক্ষকদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এবং যুক্ত মঞ্চের ডাকা এই ধর্মঘটকে ঘিরে সকাল থেকেই সিউড়ির জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ ও প্রচার কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের কর্মীরা অনেক কম ডিএ পাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশেরও বেশি মহার্ঘ ভাতা পেলেও রাজ্যের কর্মচারীরা তার তুলনায় অনেক কম ডিএ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। এই বৈষম্য দূর করে কেন্দ্রের হারে ডিএ প্রদান, বকেয়া ডিএ মেটানোসহ বিভিন্ন দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন। সেই দাবিকেই সামনে রেখে এদিন রাজ্য জুড়ে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
এই ধর্মঘটের সমর্থনে শুক্রবার সকালে সিউড়ির জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে আন্দোলনকারীরা প্রচার কর্মসূচি চালাচ্ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় শাসক দলের কর্মচারী সংগঠনের কয়েকজন সদস্য সেখানে এসে আন্দোলনকারী কয়েকজন মহিলাকে হেনস্থা করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।হেনস্থার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা অভিযুক্তদের তাড়া করলে তাঁদের মধ্যে দু’একজন ছুটে জেলা শাসকের দপ্তরের ভিতরে ঢুকে পড়েন।আন্দোলনকারীরাও ধাওয়া করতে করতে দপ্তরের সামনে পৌঁছে গেলে সেখানে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ দ্রুত তৎপর হয় এবং জেলা শাসকের দপ্তরের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়।এরপর ধর্মঘট সমর্থকরা দপ্তরের সামনেই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। কিছু সময় ধরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি চলার পর আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে মিছিল করে অন্যত্র চলে যান।এদিন যৌথ মঞ্চের ডাকা ধর্মঘটকে ঘিরে বীরভূমের রামপুরহাটেও নেমে এলেন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিভিন্ন সরকারি দফতরের কর্মীরা। এদিন রামপুরহাট শহরের রাজপথে বিক্ষোভ মিছিল করে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন তারা।জানা যায়, শুক্রবার বীরভূমের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সরকারি কর্মী রামপুরহাট শহরে জড়ো হন। এরপর শহরের প্রাণকেন্দ্র পাঁচমাথা মোড় থেকে শুরু হয় তাদের মিছিল। সেই মিছিল গোটা রামপুরহাট শহর পরিক্রমা করে। মিছিল চলাকালীন বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের রাজপথবিক্ষোভকারীদের মুখে শোনা যায় চুরি করেছে চুরি করেছে, আমাদের ডিএ চুরি করেছে সরকার সহ একাধিক স্লোগান।মিছিলটি শহর ঘুরে পৌঁছে যায় রামপুরহাটের এসডিও অফিসে। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। এরপর আবার সেখান থেকে বেরিয়ে এসে পাঁচমাথা মোড়ে জড়ো হয়ে হাততালি ও স্লোগানের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিবাদ জানান শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সরকারি কর্মীরা।আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া থাকা মহার্ঘ ভাতা দ্রুত মেটাতে হবে। পাশাপাশি বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, স্কুল-কলেজে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ, সঠিক বেতন কাঠামো কার্যকর করা সহ মোট ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয় এই মিছিল থেকে।তবে,মহার্ঘ ভাতার দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের ঢাকা ধর্মঘটের প্রভাব পড়লো না রামপুরহাটে। সকাল থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পড়ুয়াদের আনাগোনা ও দিনভর স্বাভাবিক ছন্দেই ছিল পঠন-পাঠন প্রক্রিয়া। দেখা যায় রামপুরহাট গার্লস হাই স্কুল ও রামপুরহাট অমিয় স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অন্যান্য দিনের মতো এদিনও শিক্ষক শিক্ষিকাদের উপস্থিতির পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদেরও উপস্থিতি মন্দ ছিল না। স্বাভাবিক ছন্দেই ছিল পঠন-পাঠন প্রক্রিয়াও। এই প্রসঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা জানান, যেহেতু বন্ধ ডাকা হয়েছিল সে কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি না থাকলেও সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট টাইমে উপস্থিত ছিলেন। শুধুমাত্র ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি ছিল না সে কারণেই পড়াশোনা বন্ধ থাকলেও স্কুল ছিল তার স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড।