স্মৃতি সামন্ত,নয়া জামানা,কলকাতা : শান্তিপূর্ণ ভোটই লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের। মঙ্গলবার কলকাতায় এই বার্তাই স্পষ্ট করে দিয়ে গেলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। রাজ্যে অবাধ ও হিংসামুক্ত নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে বিন্দুমাত্র আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি। কোনো পক্ষ বা ভয়ভীতির তোয়াক্কা না করে প্রশাসনকে আইন প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন কমিশন প্রধান। স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার গ্রাফ মেপেই ঠিক হবে ভোট হবে কত দফায়। দিল্লি ফিরে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
কলকাতার সংবাদিক বৈঠকে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের ভোট হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ। কোনও রকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।’ ভোট কর্মীদের হুমকি দিলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফিয়ার অফ ফেভার ছাড়া আইন প্রয়োগ করতে হবে।’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিধন্য এই মাটির গরিমা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বাংলার সব ভোটারকে আশ্বস্ত করেন, কারোর প্রভাব বা রক্তচক্ষু ছাড়াই হবে নির্বাচন। কমিশনের লক্ষ্য স্পষ্ট, বৈধ কোনো ভোটারের নাম বাদ যাবে না তালিকা থেকে।
এবারের নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ কোটি ২৮ লক্ষ ১০ হাজার ৮৭২ এবং মহিলা ৩ কোটি ১৬ লক্ষ ৪০ হাজার ৫৮৫। রাজ্যের ৮০,৭১৯টি বুথেই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকছে। কোনো বুথেই ১২০০-র বেশি ভোটার রাখা হবে না। মহিলাদের জন্য থাকছে ১০ হাজারের বেশি বিশেষ বুথ। ভোটারের হাতে স্লিপ পৌঁছে দেবেন বিএলও-রা। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইসিআই নেট অ্যাপের মাধ্যমে বয়সভিত্তিক ভোটদানের হার প্রতি দু’ঘণ্টা অন্তর জানানো হবে।
ভোটার তালিকায় ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’ মেটাতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর পথে হেঁটেছে কমিশন। জ্ঞানেশ বলেন, ‘এর লক্ষ্য হল বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া।’ এনুমারেশন ফর্মের ৪-৫ শতাংশ ভোটার নিজেদের ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে ‘ম্যাপ’ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে বিচারপ্রক্রিয়াধীন বাকি ৫০ লক্ষ ভোটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও, দ্রুত অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের আর্জি জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট নিয়ে সংশয় কাটাতে একগুচ্ছ ব্যবস্থার কথা বলেন তিনি। তথ্যে গরমিল থাকলে কাউন্টিং এজেন্টের সামনেই হবে পরীক্ষা। ফল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে ইভিএম পরীক্ষার সুযোগও পাবেন প্রার্থীরা। পোস্টাল ব্যালট গণনা শেষ করা হবে ইভিএম গণনার অন্তত দুই রাউন্ড আগে। নির্বাচন চলাকালীন টাকা, মাদক বা অস্ত্রের অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া নজরদারি চালাবে এনফোর্সমেন্ট বিভাগ। রাজনৈতিক সমালোচনা নিয়ে তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘ভারত গণতান্ত্রিক দেশ। রাজনৈতিক দল কিছু বলতেই পারে। আমরা রাজনৈতিক মন্তব্যের উত্তর দিই না।’ সব মিলিয়ে রাজ্যের ভোট ময়দানে কমিশন যে এবার কড়া রেফারি হতে চলেছে, সেই বার্তাই দিয়ে গেলেন তিনি। ছবি পিটিআই ।