নয়া জামানা ডেস্ক : ওপার বাংলার তরুণ রাজনীতিক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে বড়সড় সাফল্য পেল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। খুনের তিন মাস পর সীমান্ত শহর বনগাঁ থেকে ধরা পড়ল দুই মূল অভিযুক্ত। শনিবার গভীর রাতে চালানো অভিযানে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগির হোসেনকে গ্রেপ্তার করেন গোয়েন্দারা। ধৃতরা যথাক্রমে পটুয়াখালি ও ঢাকার বাসিন্দা। রবিবার ধৃতদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন গোয়েন্দারা। ডিসেম্বরে ঢাকাকে রক্তাক্ত করে অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে ঢুকেছিল বলে খবর। তদন্তকারীদের দাবি, গত বছর ১২ ডিসেম্বর জোহরের নমাজ পড়ে ফেরার পথে প্রকাশ্য রাস্তায় ঝাঁজরা করে দেওয়া হয় ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ওসমান হাদিকে। সেই ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা বাংলাদেশ। হাদিকে বাঁচাতে সিঙ্গাপুরেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, ঘোষিত হয়েছিল রাষ্ট্রীয় শোক। সে সময় ভোটমুখী বাংলাদেশে এই খুন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে। হাসিনা-পরবর্তী অস্থির সময়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস বিচারের আশ্বাস দিলেও খুনিরা ভারতের মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে এপারে গা ঢাকা দেয়। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, দিল্লিতে ধরা পড়ার ভয়ে তারা বারবার ডেরা বদলাচ্ছিল। অবশেষে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে ফের বাংলাদেশে পালানোর ছক কষতেই জালে পড়ে রাহুল ও আলমগির। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, ‘গোপন সূত্রে নির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া গিয়েছিল যে, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে। তারা বনগাঁর সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল যাতে সুযোগ বুঝে পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারে।’ এই তথ্যের ভিত্তিতেই হানা দিয়ে দুজনকে আটক করা হয়। রবিবার ধৃতদের আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছেন গোয়েন্দারা। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের জমানায় এই গ্রেপ্তারি আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বড় পদক্ষেপ। ধৃতদের জেরা করে এই ষড়যন্ত্রের শিকড়ে পৌঁছাতে চাইছে এসটিএফ।
এক আধারে দুই জীবন আটকে! প্রশাসনিক ভুলে দশ বছর ধরে বঞ্চিত দুই বোন