নয়া জামানা ডেস্ক : ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই তপ্ত বাংলার রাজনীতি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার অভিযোগে কলকাতার রাজপথে ধরনায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তাঁর এই পদক্ষেপকে তীব্র বিদ্রুপ ছুড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বালুরঘাটের সাংসদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে ‘বিরোধী নেত্রী হওয়ার প্র্যাকটিস করছেন’। তাঁর ভবিষ্যৎবাণী, রাজ্যে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবে বিজেপির কেউ, আর মমতাকে তখন বিরোধী আসনেই বসতে হবে। এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে সুকান্ত বলেন, ‘কোনও অসুবিধা নেই৷ প্র্যাকটিস করছেন উনি৷ কয়েকদিন পর তো বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হবে৷ উনি বিরোধী দলনেত্রী হবেন৷ মাঝে মাঝেই ধরনা দিতে হবে৷ এখন থেকেই প্র্যাকটিস থাকা ভালো৷’ ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬৩ লক্ষ নাম বাদ পড়া এবং আরও ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন থাকা নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর নেপথ্যে বিজেপি ও কমিশনের যোগসাজশ দেখছেন তিনি। রাজ্য রাজনীতির এই উত্তাপের মাঝেই ঘি ঢেলেছে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের আচমকা ইস্তফা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লি গিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বোস সরলেও, বিরোধীদের অভিযোগের তির কেন্দ্রের দিকে। এই প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার সাফ জানান, ‘রাজ্যপাল তো স্বয়ং নিজে লিখেছেন যে উনি অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেছেন৷’ আনন্দ বোসের জায়গায় বাংলার অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পেয়েছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আরএন রবি। তিনি স্থায়ী হবেন কি না, তা নিয়ে এখনই মুখ খোলেননি সুকান্ত । এদিকে রাজ্যপাল বদল নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি দাবি করেন, পরবর্তী রাজ্যপালের নাম চূড়ান্ত করার আগে নবান্নের সঙ্গে কোনও আলোচনা করেনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। এর পাল্টা জবাবে সুকান্ত বিঁধলেন সংবিধানের ধারাকে। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে ভারতের সংবিধানে এটা কোথাও লেখা নেই৷’ ফাইল ফটো ।
কলকাতা-হাওড়া ভোট কি একসঙ্গেই? এখন শুধু রাজ্যপালের সইয়ের অপেক্ষা