নয়া জামানা ডেস্ক : আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে শেষমেশ ‘খোলাখুলি যুদ্ধ’ ঘোষণা করল পাকিস্তান। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন গজব লিল হক’-এ অন্তত ১৩০ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি পাক ফৌজের। এর মধ্যেই নেটদুনিয়ায় একটি ভিডিও ঘিরে শোরগোল পড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ভারতের পর এবার আফগানিস্তানও পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান গুলি করে নামিয়েছে। তবে ভিডিও র সত্যতা যাচাই করা হয়নি ।
পাক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আসিফ শুক্রবার সরাসরি
ঘোষনা করেছেন। তিনি জানান, ‘আমাদের ধৈর্যের সীমা ফুরিয়ে গিয়েছে। এখন এটি একটি খোলাখুলি যুদ্ধ।’ ইসলামাবাদের দাবি, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি জঙ্গিরা বারবার পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তারই পাল্টা হিসেবে কাবুল, কান্দাহার এবং পাক্তিয়ায় বিমান হানা চালিয়েছে পাকিস্তান। কান্দাহারে সুপ্রিম লিডার হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার ডেরার ওপর দিয়েও পাক জেটের গর্জন শোনা গিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, দুই দেশের সীমান্ত এখন রণক্ষেত্র।
এদিকে একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পাক পতাকাবাহী একটি যুদ্ধবিমান দাউদাউ করে জ্বলছে। ‘আফগানিস্তান ডিফেন্স’ নামক একটি এক্স হ্যান্ডেল থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘আমেরিকার তৈরি এফ ১৬ যুদ্ধবিমান যা পাক ফৌজ ব্যবহার করে, সেটা গুলি করে নামিয়েছে আফগান ফৌজ।’ যদিও বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেক সংস্থার মতে, এই ভিডিওটি পুরনো এবং বিভ্রান্তিকর। তবে গত বছর ভারতের বায়ুসেনা প্রধান অমরপ্রীত সিংহ জানিয়েছিলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ে ভারতের আক্রমণে পাকিস্তানের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল।
তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের এই আক্রমণকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে দেগে দিয়েছেন। তিনি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘কাপুরুষ পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কাবুল, কান্দাহার এবং পাক্তিয়ার কিছু এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে।’ মুজাহিদের দাবি, এই হামলায় তাঁদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। উল্টে সীমান্ত সংঘর্ষে আটজন পাক সেনার মৃত্যুর খবর মিলেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতা ব্যর্থ হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হল।