নয়া জামানা ডেস্ক : ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা। বৃহস্পতিবার সকালে অনুভূত এই কম্পনের জেরে দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিমে ঘুরতে আসা পর্যটকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও আবহাওয়া দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, কম্পন মৃদু হওয়ায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত বা বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৩৪ মিনিটে প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল সিকিমের গেলসিং, যা ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৬। মূল কম্পনের পর সিকিমে আরও ৫ বার আফটারশক অনুভূত হয়েছে। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও এই কম্পন টের পাওয়া গেছে। কোনও কোনও সূত্রে কম্পনের মাত্রা ৪.৮ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সিকিমে কম্পন অনুভূত হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই উত্তরবঙ্গে দুইবার দুলুনি অনুভূত হয়।বর্তমানে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা বিশেষ করে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে প্রচুর পর্যটকের ভিড় রয়েছে। হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হতেই হোটেলের ঘর ছেড়ে হুড়োহুড়ি করে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বারবার মাটি কেঁপে ওঠায় পাহাড়ে ধস নামার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে পর্যটকদের মনে।গত ২০ দিনে সিকিম ও উত্তরবঙ্গে ৫০-এর বেশিবার কম্পন অনুভূত হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরু থেকেই এই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।কয়েক দিন আগেই সিকিমের রাবাংলা থেকে ৮ কিমি দক্ষিণে ভূমিকম্প হয়েছিল, যার পর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ১৩ বার কম্পন অনুভূত হয়।উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও একদিনে সর্বোচ্চ ১২ বার কম্পন হওয়ার রেকর্ড তৈরি হয়েছে।গত ৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতেও ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপেছিল গ্যাংটক ও পেলিং।শুধু সিকিম বা উত্তরবঙ্গ নয়, গতকাল বুধবার রাতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে বাংলাদেশেও। সেখানে রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৫.১। তবে সেখানেও বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।বারবার এই ৪ মাত্রার আশেপাশে কম্পন হওয়াকে ভূ-তাত্ত্বিকরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। বড় কোনও ভূমিকম্পের আগে এটি রিলিজ অব এনার্জি নাকি কোনও বড় বিপর্যয়ের সঙ্কেত, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
আরও পড়ুন-