নয়া জামানা ডেস্ক : বাংলার রাজনীতিতে বহিরাগত তকমা ঘোচাতে এবং বাঙালি আবেগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করল বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও হিন্দিভাষী কেন্দ্রীয় নেতা জনসভার মঞ্চ থেকে হিন্দিতে ভাষণ দেবেন না। লক্ষ্য একটাই বাঙালির সাংস্কৃতিক অস্মিতাকে সম্মান জানিয়ে নিঃশব্দে সংগঠন মজবুত করা।বিজেপি সূত্রের খবর, সুনীল বনসাল, ভূপেন্দ্র যাদব বা অমিত মালব্যর মতো কেন্দ্রীয় নেতারা এবার কোনও প্রকাশ্য জনসভায় বক্তৃতা দেবেন না। এমনকি সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলার ক্ষেত্রেও জারি হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। এই নিয়মের একমাত্র ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে বাংলাভাষী বিপ্লব দেবকে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, অতীতে কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের মতো নেতাদের অতি-সক্রিয়তা এবং হিন্দি ভাষায় ভাষণ হিতে বিপরীত হয়েছিল। তাই এবার রণকৌশল সাজানো হয়েছে ‘মেঘনাদ’-এর মতো আড়াল থেকে। প্রকাশ্যে বড় বড় রাজনৈতিক মন্তব্যের বদলে এখন বন্ধ দরজার বৈঠকে সংগঠন গোছানোই মূল লক্ষ্য।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘনঘন উপস্থিতি এবং আক্রমণাত্মক অবস্থান বাঙালির আঞ্চলিক সংবেদনশীলতায় আঘাত করেছিল। সেই ভুল শুধরে নিতেই এবারের নির্বাচনে কৌশল বদল। জনসভার জাঁকজমক কমিয়ে এখন জোর দেওয়া হচ্ছে বুথ স্তরের প্রস্তুতি এবং সাংগঠনিক সমন্বয়ে। দলের অন্দরমহলে এই পদ্ধতিকে নীরব কিন্তু পরিকল্পিত লড়াই হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।বাংলার বিশেষ রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ভাষা এবং আঞ্চলিক পরিচয়কে প্রাধান্য দিয়েই এই ভোলবদল। প্রকাশ্য রাজনীতি থেকে আড়ালে থেকে সংগঠনের অন্দরে সক্রিয় থাকার এই ফর্মুলা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। গেরুয়া শিবিরের এই লো-প্রোফাইল কৌশল নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে কতটা সাহায্য করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন-
নন্দীগ্রামে পুজো মঞ্চ থেকে রাজনৈতিক বার্তা, তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন শুভেন্দু অধিকারী