নয়া জামানা, মালদা: রাজ্য নেতৃত্বের ‘দরজা বন্ধ’ বার্তার মধ্যেই বিজেপির শিক্ষক দিবস উদযাপনের মঞ্চে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা ও সদস্যদের উপস্থিতি ঘিরে মালদহে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বারবার জানিয়েছেন, তৃণমূলের কোনও পদাধিকারী বা সদস্যকে দলে নেওয়া হবে না। অথচ পুরাতন মালদায় বিজেপি টিচার্স সেলের অনুষ্ঠানে প্রথম সারিতে দেখা গেল তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের একাধিক নেতা ও সদস্য কে।আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপির সুশাসন বিভাগের উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত আহ্বায়ক কাজল গোস্বামী।তাঁর প্রশ্ন,রাজ্য নেতৃত্ব যখন তৃণমূলের জন্য দরজা বন্ধ রাখার কথা বলছেন,তখন বিজেপির শিক্ষক সংগঠনের অনুষ্ঠানে তৃণমূলের শিক্ষক নেতা ও সদস্যদের উপস্থিতি কীভাবে সম্ভব?

শুধু তাই নয়,বিজেপির টিচার্স সেল এবং আরএসএস-এর শিক্ষক সংগঠন এবিআরএসএম দুই সংগঠনকে ঘিরেও শিক্ষক শিক্ষিকা মহলে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।কোন সংগঠন প্রশাসনিক স্তরে বেশি গুরুত্ব পাবে তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে বলে দাবি।
রবিবার সাহাপুরের একটি বেসরকারি হোটেলে বিজেপি টিচার্স সেলের উদ্যোগে শিক্ষক দিবস পালিত হয়। উপস্থিত ছিলেন উত্তর মালদার সাংসদ খগেন মুর্মু, দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজয় গাঙ্গুলি, শ্যামচাঁদ ঘোষ-সহ বিজেপি নেতৃত্ব। বিশিষ্ট শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংবর্ধনার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবির।সংগঠনের সদস্যদের জন্য বেসরকারি নার্সিংহোমের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ছাড়ের ঘোষণাও করা হয়।
যদিও যাবতীয় বিতর্ক উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি টিচার্স সেলের সহকারী আহ্বায়ক দেবদুলাল বড়ুয়া।তাঁর দাবি, এবিআরএসএম অরাজনৈতিক সংগঠন।ফলে কোনও সমস্যা নেই।একই সুর অজয় গাঙ্গুলীর গলাতেও।তাঁর বক্তব্য,দুটি সংগঠন থাকলেও সাংগঠনিকভাবে কোনও সংঘাত হবে না।তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে একই শিক্ষক সমাজের সামনে বিজেপির মঞ্চে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের নেতা ও সদস্যদের উপস্থিতি কি নিছক সৌজন্য নাকি মালদায় বিজেপির তৃণমূলীকরণের ইঙ্গিত ?
আরো পড়ুন:
স্বাধীনতা দিবসের আগে মালদার রাজপথে তিরঙ্গা যাত্রা,‘হর ঘর তিরঙ্গা’র ডাক বিজেপির