কুশল রায় ৷৷ নয়া জামানা ৷৷ শীতলকুচি: বয়স শুধু একটি সংখ্যা—এই প্রবাদকে ফের প্রমাণ করলেন শীতলকুচির তাইজুল হক মিয়া। ১৮০০ কিলোমিটার পথ সাইকেলে পাড়ি দেওয়ার সংকল্প নিয়ে তিনি রওনা দিয়েছেন রাজস্থানের আজমীর শরীফের উদ্দেশ্যে। তাঁর এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণমুক্ত পরিবেশের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
শীতলকুচি ব্লকের বড়মরিচা গ্রাম পঞ্চায়েতের লালবাজার এলাকার বাসিন্দা তাইজুল হক মিয়া শুক্রবার নিজের বাড়ি থেকে সাইকেল নিয়ে বের হন। শনিবার তাঁকে দেখা যায় চ্যাংরাবান্ধা সীমান্ত এলাকায়। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েননি, বরং অদম্য মনোবল নিয়ে প্যাডেল ঘোরাচ্ছেন তিনি।
তাইজুল হকের কথায়, আরাম করে ট্রেন বা বাসে যাওয়া যেত। কিন্তু তিনি ইচ্ছে করেই সেই পথ বেছে নেননি। দূষণমুক্ত পরিবেশের বার্তা দিকে দিকে ছড়িয়ে দিতে চাই। তাই বাস, ট্রেন সব বাদ দিয়ে সাইকেলকেই সঙ্গী করেছি, বলেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সাইকেল শুধু যানবাহন নয়, এটি পরিবেশ বাঁচানোর একটি প্রতীকও।
এই প্রথম নয়, এর আগেও তিনি সাইকেলে করে আজমীর শরীফ গিয়েছেন। এমনকি একবার পায়ে হেঁটেও ওই দরগা দর্শন করেছেন। তাই দীর্ঘ পথের কষ্ট, রাস্তার প্রতিকূলতা সম্পর্কে তাঁর আগাম ধারণা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকেই পাথেয় করে ফের পথে নেমেছেন ৭০-এর কোঠায় থাকা এই বৃদ্ধ।
যাত্রাপথে থাকা-খাওয়া কীভাবে হবে—এই প্রশ্নের উত্তরে তাঁর সহজ উত্তর, আল্লাহর রহমতে পথেই সব হয়ে যায়। রাতের আশ্রয়ের জন্য কখনও হোটেল, কখনও পথের ধারের মসজিদ, কখনও বা মন্দিরে আশ্রয় নেন। আর খাবার? মানুষ যা দেয়, হাসিমুখে তাই খেয়ে নিই। কারও কাছে হাত পাতি না, বলেন তাইজুল।
চ্যাংরাবান্ধা পেরিয়ে তিনি এখন পশ্চিমবঙ্গের বাইরে পা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সামনে উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান— দীর্ঘ এবং কঠিন পথ। ঝড়-বৃষ্টি, রোদ-গরম সবই আসবে। তবে কোনও কিছুতেই দমছেন না তিনি। বরং প্রতিটি প্যাডেলে তাঁর বার্তা আরও জোরালো হচ্ছে— গাছ লাগান, প্লাস্টিক বর্জন করুন, সাইকেল চালান, পরিবেশ বাঁচান।
স্থানীয়রা তাঁকে দেখে উৎসাহ দিচ্ছেন। কেউ জল দিচ্ছেন, কেউ খাবার। চ্যাংরাবান্ধায় দাঁড়িয়ে কয়েকজন যুবক তাঁর সঙ্গে সেলফিও তোলেন। তাঁরা বলেন, কাকার বয়স হয়েছে, কিন্তু মনটা এখনও যুবকের মতো। ওঁকে দেখে আমাদেরও শিক্ষা নেওয়া উচিত।
তাইজুল হক মিয়ার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশকর্মীরাও। তাঁদের মতে, বড় বড় প্রচারের বদলে একজন সাধারণ মানুষের এই নীরব প্রচেষ্টা অনেক বেশি প্রভাব ফেলে।
কথা বলতে বলতেই আবার সাইকেলে চেপে বসেন তাইজুল। গন্তব্য এখনও অনেক দূর। কিন্তু তাঁর চোখে ক্লান্তি নেই, আছে একরাশ স্বপ্ন। দূষণমুক্ত পৃথিবীর স্বপ্ন, মানবতার স্বপ্ন। চ্যাংরাবান্ধার রাস্তা পেরিয়ে তিনি মিলিয়ে যান আজমীরের পথে। তাঁর সাইকেলের ঘণ্টার আওয়াজ যেন বলে যায়— ইচ্ছা থাকলে বয়স কোনও বাধা নয়।
৮ কিমি ট্রাইসাইকেল চালিয়ে দিদির সভায় হাজির, স্বপ্নপূরণ মানবাজারের তৃণমূল কর্মী সুশীলের