সাজাহান আলি , নয়া জামানা, দক্ষিণ দিনাজপুর: আসন্ন ঈদ উল আযহা বা কোরবানি ঈদ নিয়ে প্রশাসনের ডাকা বৈঠকের পর হতাশ মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষজন। রাজ্য সরকারের পাঠানো নির্দেশিকা অনুসরণ করে আদৌ পশু কোরবানি দেওয়া সম্ভব নয় বলে চরম হতাশা প্রকাশ করে ও ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন বৈঠকে উপস্থিত মানুষজন। কুমারগঞ্জ ব্লক প্রশাসনের তরফে আয়োজিত এই ঈদ নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুমারগঞ্জের বিডিও শুভঙ্কর সাহা , জয়েন্ট বিডিও পবিত্র বর্মন , ডিএসপি( ডি অ্যান্ড টি ) শাহজাহান মন্ডল , কুমারগঞ্জের আইসি মানবেন্দ্রনাথ সাহা , দক্ষিণ দিনাজপুর মাদ্রাসা সমন্বয় সমিতির (রাবেতা) জেলা সম্পাদক মৌলানা মাকসুদ আলী কাসেমী , ইমাম ও ঈদগাহের প্রতিনিধি হিসেবে মাইমুর সুলতান , আনিসুর রহমান সরকার , আজাদ আলী মন্ডল , মৌলানা মোস্তাফিজুর রহমান সহ আরো অনেকে । কিন্তু কুমারগঞ্জে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তৃতীয়বারের জন্য নির্বাচিত বিধায়ক তোরাফ হোসেন মন্ডল কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত হলেন না তা নিয়ে ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়
কোরবানি ঈদ নিয়ে আয়োজিত কুমারগঞ্জ ব্লকের প্রশাসনিক বৈঠকে বিডিও শুভঙ্কর সাহা রাজ্য সরকারের পাঠানো নির্দেশিকা সকলকে পড়ে শোনান। এক্ষেত্রে পশু কোরবানি দিতে হলে তার বয়স , সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকে নেওয়া শংসাপত্র ও অন্যান্য বিধি নিষেধের কথা পরিষ্কারভাবে পড়ে শোনান। এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে , যারা পশু কোরবানি সংক্রান্ত নির্দেশিকা অমান্য করবেন তাদের এক হাজার টাকা জরিমানা কিংবা ছয় মাসের জেল অথবা উভয় শাস্তি একসঙ্গে হতে পারে। কুমারগঞ্জ ব্লকের সমস্ত ইমাম , মুয়াজ্জিন , ঈদগা কমিটি তথা মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষজনের মাঝে রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিডিও সকলকে অনুরোধ করেন। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ইমাম , মুয়াজ্জিন ও মুসলিম প্রতিনিধিদের তরফে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপিত হলেও তার কোন সদুত্তর কোন আধিকারিক দিতে পারেননি এবং সব ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে বলে জানানো হয় । বস্তুত , এ বিষয়ে মুসলিম প্রতিনিধিরা রীতিমতো হতাশা প্রকাশ করে নিরুপায় ভাবে ক্ষোভ ব্যক্ত করেন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা মাদ্রাসা সমন্বয় সমিতির ( রাবেতা ) জেলা সম্পাদক মৌলানা মাকসুদ আলী কাসেমী বলেন , রাজ্য সরকারের এই নির্দেশ মেনে গোরু কোরবানি দেওয়া আদৌ সম্ভব নয়। কারণ নির্দেশিকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে এত কঠোর ও জটিল ভাবে নিয়মগুলি বলা হয়েছে যা মেনে কারো পক্ষেই গোরু কোরবানি করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন , রাজ্য সরকারের এই নির্দেশিকাতে মুসলিম সমাজ চরম হতাশ , দুঃখিত ও ব্যথিত । তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রাজ্য সরকারের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবিবেচনা করে পূর্বের মতো শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির পরিবেশে ঈদ পালনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান।অন্যান্য মুসলিম প্রতিনিধিরাও এই বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন।
ফের রণক্ষেত্র বাংলাদেশ! ইউনূসের বাসভবন ঘেরাও, পুলিশি অভিযানে আহত বহু