শুভজিৎ দাস, নয়া জামানা, বারুইপুর: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে ঘিরে এখনও থমথমে পরিস্থিতি। গোটা রাজ্যজুড়ে আলোড়ন তোলা এই ঘটনার পর শনিবার ফের বারুইপুর সফরে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করা, গণপিটুনিতে নিহত নির্দোষ ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং নবগঠিত সূর্যপুর পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি সূর্যপুরে পৌঁছে প্রথমে নির্যাতিতা নাবালিকার বাড়িতে যান। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমবেদনা জানান এবং আশ্বাস দেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতেও প্রশাসন পরিবারের পাশে থাকবে বলেও তিনি জানান।
এরপর তিনি গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বাড়িতে যান। তদন্তে ইন্দ্রজিতের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ না মিললেও গুজবের জেরে তাঁকে প্রাণ হারাতে হয়। পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবির পর এদিন ইন্দ্রজিতের দাদা বাপি মণ্ডলের হাতে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন শুভেন্দু অধিকারী। আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও এদিন পূরণ হয়।
পরে তিনি সূর্যপুরের নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন। প্রশাসনের দাবি, এলাকার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ এবং নিয়মিত পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই ফাঁড়ি চালু হয়েছে। আপাতত এখানে ২ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ৪ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর, ৪ জন মহিলা পুলিশ-সহ মোট ২০ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই সূর্যপুরের ১২ বছরের এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়। পরদিন একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অন্যদিকে, গুজবের জেরে নির্দোষ ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় পৃথক মামলা করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। একদিকে নাবালিকার মর্মান্তিক মৃত্যু, অন্যদিকে নির্দোষ যুবকের প্রাণহানি—দুই ঘটনাই এখনও এলাকাবাসীর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর সফর প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি মানবিক বার্তাও বহন করল বলে মনে করছে স্থানীয় মহল।