কুশল রায় ৷৷ নয়া জামানা ৷৷ উত্তরবঙ্গ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতার গঙ্গাবক্ষে নৌকাভ্রমণের ভিডিও এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। সেই ভিডিওর বিশেষত্ব ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। দোতারার সুরে বাজছে উত্তরবঙ্গের বিখ্যাত ভাওয়াইয়া গান ‘ও বৈদেশিয়া বন্ধু রে… একবার উত্তরবাংলা আসিয়া যান’। আর এতেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা — ভিডিওর মাধ্যমে কি উত্তরবঙ্গে বেড়াতে আসার বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী?
প্রয়াত ভাওয়াইয়াশিল্পী ধনেশ্বর রায়ের লেখা এই গানে উত্তরবঙ্গের প্রকৃতি ও মানুষের আতিথেয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। ‘জলপাইগুড়ির বারুই পান, কোচবিহারের হেউতি ধান, দার্জিলিংয়ের চা বাগান, জলদাপাড়ার জঙ্গল খান’ দেখে যাওয়ার আহ্বান রয়েছে। উঠে এসেছে তিস্তা, তোর্ষা, মানসাই নদীর কথাও। শুধু প্রকৃতি নয়, ‘মনের কথা শুনিয়া যাও রে, এ বন্ধু তোমার কথাও কইয়া যানরে’ — এই লাইনে ফুটে উঠেছে উত্তরবঙ্গের মানুষের আন্তরিকতা।
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওতে এই সুর ব্যবহার হওয়ায় খুশি উত্তরবঙ্গবাসী। মাথাভাঙ্গার পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপক ভাওয়াইয়াশিল্পী গীতা রায়বর্মন বলেন, শুধু আমি নই, গোটা উত্তরবঙ্গবাসী এই ঘটনায় গর্বিত। রাজবংশী তথা ভাওয়াইয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে ভাবছেন তারই বহিঃপ্রকাশ এটা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণবঙ্গে তৈরি ভিডিওতে উত্তরবঙ্গের মাটির গানের ছোঁয়ায় সূক্ষ্ম রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি উত্তরবঙ্গ ও রাজবংশী ভাষাকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তপশিলিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি পেয়েই বিজেপিকে সমর্থনের ঘোষণা করেছেন গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মন।
গত ৫ এপ্রিল কোচবিহারের রাসমেলা মাঠের জনসভাতেও একাধিকবার রাজবংশী ভাষায় কথা বলেছিলেন মোদি। সভার শুরুতে বলেন, ‘সগাইকে জানাই মোর দণ্ডবত’ অর্থাৎ সবাইকে প্রণাম। আবার বলেন, ‘মুই তুমারগুলার লোক আছং’ অর্থাৎ আমি আপনাদেরই লোক।
ভোটের মরশুমে প্রধানমন্ত্রীর এই ভিডিও নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। একদিকে ভাওয়াইয়া গানের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের সংস্কৃতিকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরা, অন্যদিকে ‘বৈদেশিয়া বন্ধু’কে উত্তরবঙ্গে আসার আমন্ত্রণ — দুই বার্তাই একসঙ্গে দিয়েছেন মোদি। দক্ষিণবঙ্গের গঙ্গা থেকে উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া, সব মিলিয়ে এই ভিডিও এখন রাজনীতি ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন হয়ে উঠেছে।