প্রদীপ কুন্ডু ৷৷ নয়া জামানা ৷৷ কোচবিহার: বক্সিরহাট লাল কলোনীর মাঠের নির্বাচনী সভা থেকে পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানালেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, চাকরির নিয়োগের পরীক্ষায় যারা টাকা নিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
কড়া মন্তব্য করে তিনি বলেন, যারা যুবকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে, তাদের এই রাজ্যে থাকার অধিকার নেই। প্রয়োজনে তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। তাঁর এই বক্তব্যের পর সভায় উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে।
এদিনের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরাসরি শাসক দলকে নিশানা করেন। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতির কারণে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে চাকরি বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, এটি একটি প্রজন্মের স্বপ্ন ধ্বংস করার সমান। যোগ্য ছেলেমেয়েরা রাস্তায় বসে আছে, আর টাকার জোরে অযোগ্যরা চেয়ারে বসছে। এই ব্যবস্থা আর চলতে দেওয়া যায় না।
হেমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু করে প্রকৃত যোগ্যদের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর কথায়, যুব সমাজের আস্থা ফিরিয়ে আনাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা কথা দিচ্ছি, পরীক্ষা হবে স্বচ্ছ, নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে।
সভায় উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে এবং আসন্ন নির্বাচনে পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে। বলেন, ঘরে ঘরে যান, মানুষকে বোঝান। এই লুটের রাজত্ব শেষ করতে হবে। বাংলার ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে হবে।
তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের নিয়োগ দুর্নীতিকে তিনি নির্বাচনের একটি বড় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। সভায় আসা স্থানীয় যুবকদের একাংশ জানান, চাকরির আশায় বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও লাভ হয়নি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য তাঁদের মনে নতুন আশা জাগিয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া মন্তব্যটি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা একে উস্কানিমূলক বলে ব্যাখ্যা করতে পারে। তবে বিজেপি শিবিরের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে হেমন্ত বিশ্ব শর্মার কথায়।
সভা শেষে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। জেলা বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে নিয়োগ দুর্নীতিকে সামনে রেখেই প্রচারে ঝাঁপাবে দল।