• Home /
  • দেশ /
  • আসন বৃদ্ধির বিল ভেস্তে দিল ‘ইন্ডিয়া’, ফোনালাপে সক্রিয় রাহুল-অভিষেক

আসন বৃদ্ধির বিল ভেস্তে দিল ‘ইন্ডিয়া’, ফোনালাপে সক্রিয় রাহুল-অভিষেক

নয়া জামানা ডেস্ক :লক্ষ্য ছিল মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে লোকসভার আসন সংখ্যা একলাফে ৮৫০ করে ফেলা। কিন্তু বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র দুর্ভেদ্য প্রতিরোধের মুখে পড়ে শুক্রবার লোকসভায় বড়সড় ধাক্কা খেল নরেন্দ্র মোদী সরকারের ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায়....

আসন বৃদ্ধির বিল ভেস্তে দিল ‘ইন্ডিয়া’, ফোনালাপে সক্রিয় রাহুল-অভিষেক

নয়া জামানা ডেস্ক :লক্ষ্য ছিল মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে লোকসভার আসন সংখ্যা একলাফে ৮৫০ করে ফেলা। কিন্তু....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক  :লক্ষ্য ছিল মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে লোকসভার আসন সংখ্যা একলাফে ৮৫০ করে ফেলা। কিন্তু বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র দুর্ভেদ্য প্রতিরোধের মুখে পড়ে শুক্রবার লোকসভায় বড়সড় ধাক্কা খেল নরেন্দ্র মোদী সরকারের ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না মেলায় ভেস্তে গেল প্রধানমন্ত্রীর ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর নতুন সংস্করণ। এই সংসদীয় পরাজয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ উস্কে দিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফোনে কথা বললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট শুরুর মাত্র সাত দিন আগে দুই শীর্ষ নেতার এই ‘গোপন’ আলাপচারিতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

শুক্রবার লোকসভায় টানটান উত্তেজনার মধ্যে এই বিল নিয়ে ভোটাভুটি হয়। ভোটাভুটির ফল বলছে, বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৯৮টি এবং বিপক্ষে গেছে ২৩০টি। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন। সংবিধান সংশোধনের জন্য যে বিশেষ জনসমর্থনের প্রয়োজন ছিল, তা জোগাড় করতে চরম ব্যর্থ হয় শাসক শিবির। পরাজয় নিশ্চিত বুঝে ভোটাভুটির ঠিক আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের ‘মহিলা বিরোধী’ বলে দেগে দেওয়ার চেষ্টা করেন। জনসংখ্যা বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে আসন বাড়ানোর সপক্ষে তিনি সওয়াল করেন, ‘এমন লোকসভা আসন আছে, যেখানে ভোটারের সংখ্যা ৪৮ লক্ষ। কী ভাবে সেখানকার সাংসদ ভোটদাতাদের প্রত্যাশা পূরণ করবেন?’ এর পরেই সুর নরম করে তিনি বলেন, ‘আমাদের উপর ভরসা রাখুন। বিল পাশ করতে দিন।’ কিন্তু শাহের এই আবেগঘন আবেদনও বিরোধীদের বরফ গলাতে পারেনি। উল্টে মেজাজ হারিয়ে শাহ রাহুল গান্ধীকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, ‘রাহুল গান্ধীর উচিত সংসদে কী ভাবে কথা বলতে হয়, তা তাঁর বোন প্রিয়ঙ্কার থেকে শেখা।’

বিজেপির এই পরাজয়ের নেপথ্যে রয়েছে বিরোধীদের সুপরিকল্পিত রণকৌশল। কংগ্রেস, তৃণমূল এবং বামেদের দাবি, মহিলা সংরক্ষণকে ‘শিখণ্ডী’ করে বিজেপি আসলে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করে উত্তর ভারতের প্রভাব অস্বাভাবিক বাড়িয়ে নিতে চেয়েছিল। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ও অখিলেশ যাদবদের স্পষ্ট অভিযোগ, জনগণনার আগেই আসন বাড়িয়ে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়াই ছিল কেন্দ্রের গোপন অ্যাজেন্ডা। রাহুল গান্ধীও সংসদে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘আপনাদের ক্ষমতা কমে আসছে। সেই জন্য দেশের ভোট মানচিত্র বদলের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। যেমন অসমে করেছেন। কিন্তু আমরা আপনাদের এই চেষ্টা সফল হতে দেব না। সব বিরোধী দল আপনাদের হারাবেই।’ রাহুল আরও সাফ জানান, ওবিসি ও দলিত মহিলাদের জন্য আলাদা সংরক্ষণ ছাড়া এই বিল মানা অসম্ভব। রাহুলের তির্যক মন্তব্য, ‘আপনারা ওবিসি এবং দলিতদের হিন্দু বলেন। কিন্তু দেশে ওঁদের কোনও অধিকার দেন না। সত্যি কথা আপনাদের খুব খারাপ লাগে।’

সংসদীয় এই লড়াইয়ের রেশ সরাসরি আছড়ে পড়েছে বাংলার মাটিতেও। গত সোমবার বাংলায় প্রচারে এসে তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর সেই মন্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার দিল্লিতে বিরোধীদের মহাবৈঠকে গরহাজির ছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। কিন্তু শুক্রবার লোকসভায় বিজেপির বিল পতনের পরেই চিত্রটা পাল্টে যায়। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ সূত্রের খবর, শুক্রবার রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন রাহুল গান্ধী। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই ফোনে কথা হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, জাতীয় স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর ঐক্য বজায় রাখতেই এই তৎপরতা শুরু হয়েছে। ডেরেকের অনুপস্থিতি যে ফাটল ধরিয়েছিল, এই ফোন কল সম্ভবত সেই ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা।

মোদী সরকার চেয়েছিল সংবিধানের ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন করে জনগণনার রিপোর্টের তোয়াক্কা না করেই লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪২ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করতে। কিন্তু বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধে সেই পরিকল্পনা বিশ বাঁও জলে চলে গেল। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ১০৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান কোটা তুলে দিয়েছিল মোদী সরকার। এবার আসন বৃদ্ধির চেষ্টাও বড় ধাক্কা খেল। যদিও ভোটাভুটির আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সমাজমাধ্যমে আর্জি জানিয়েছিলেন, ‘দেশের নারীশক্তির সেবা করার ক্ষেত্রে এটি বড় সুযোগ। তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না!’ তিনি দাবি করেছিলেন, ‘চার দশক ধরে নারী সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে প্রচুর রাজনীতি হয়েছে। এখন সময় এসেছে, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে অবশ্যই তাদের অধিকার দিতে হবে।’ কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই অন্তিম আর্জিতেও চিঁড়ে ভেজেনি।

প্রথম বিলটি পাশ না হওয়ায় বাকি দু’টি বিল— আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল নিয়ে আর ভোটাভুটি করার সাহস দেখায়নি সরকার। মজার বিষয় হল, সংসদে যখন এই বিতর্ক চূড়ান্ত পর্যায়ে, ঠিক তখনই বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ২০২৩ সালের পুরনো ১০৬তম সংবিধান সংশোধনী আইনটি কার্যকর করে দিয়েছে। যে আইনে বলা হয়েছিল, জনগণনার পরেই কেবল আসন পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন বিলটি যে মুখ থুবড়ে পড়বে, তা সম্ভবত আগেই আঁচ করতে পেরেছিল দিল্লি। তাই তড়িঘড়ি পুরনো আইনটি কার্যকর করে নিজেদের ‘মহিলা দরদি’ ভাবমূর্তি টিকিয়ে রাখার কৌশল নিয়েছে কেন্দ্র। সব মিলিয়ে, আসন বৃদ্ধির যুদ্ধে লোকসভায় পর্যুদস্ত হতে হল মোদী সরকারকে। আর এই পরাজয়ের আবহে রাহুল-অভিষেক রসায়ন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়াল। লোকসভার পাটিগণিত বুঝিয়ে দিল, বিরোধীরা একজোট হলে সংবিধান সংশোধন করা মোদী সরকারের পক্ষে সহজ হবে না।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর