নয়া জামানা, কলকাতা : পশিচমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হাত শক্ত করতে এবার সস্ত্রীক ময়দানে নামছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। শনিবার থেকেই এ রাজ্যে প্রচার অভিযান শুরু করছেন তিনি। সঙ্গে থাকছেন তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনও। মূলত জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিত করতেই ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) এই হেভিওয়েট জুটিকে তুরুপের তাস করতে চাইছে জোড়াফুল শিবির। তৃণমূল সূত্রের খবর, শনিবার বাঁকুড়া দিয়েই প্রচারের হাতেখড়ি হবে সোরেন দম্পতির। এরপর তাঁরা পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর— এই চার জেলা চষে ফেলবেন। জঙ্গলমহলের আদিবাসী জনজীবনের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের গভীর আত্মিক যোগ রয়েছে। সেই আবেগকেই হাতিয়ার করে বিজেপিকে রুখতে চাইছে শাসকদল। গত লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলে তৃণমূল ভালো ফল করলেও স্থানীয় স্তরের নেতাদের নিয়ে জনমানসে কিছুটা অসন্তোষ রয়েছে। সেই কারণেই এবার একাধিক আসনে প্রার্থী বদল করেছে তৃণমূল। এমনকি খোদ মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদাকেও ঝাড়গ্রাম থেকে সরিয়ে বিনপুরে পাঠানো হয়েছে। এই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতেই হেমন্তকে সামনে আনা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, জঙ্গলমহলের পশ্চিমাঞ্চলে বিজেপিবিরোধী হাওয়া জোরালো করতেই এই মাস্টারস্ট্রোক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হেমন্ত সোরেনের ব্যক্তিগত রসায়ন বেশ গভীর। গত জানুয়ারিতে বীরভূম সফরে কপ্টার সমস্যা মেটাতে ’বন্ধু’ হেমন্তই এগিয়ে এসেছিলেন। এবার সেই বন্ধুত্বের প্রতিদান দিতেই সরাসরি তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নামছেন তিনি। স্থানীয় নেতাদের ওপর ক্ষোভ থাকলেও আদিবাসী সমাজের ওপর হেমন্তের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ভোটের অঙ্ক মেলাতে চাইছে নবান্ন। শনিবার থেকেই জঙ্গলমহলে শুরু হচ্ছে ঝাড়খণ্ডি রাজনীতির এই নতুন সমীকরণ। জেএমএম শীর্ষ নেতৃত্ব আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের হয়ে সওয়াল করবেন। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। ফাইল ফটো।