নয়া জামানা : অক্ষয় তৃতীয়া হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র একটি তিথি। বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে, বিশেষ করে রোহিনী নক্ষত্র যুক্ত হলে, এই দিনটি “অক্ষয় তৃতীয়া” নামে পরিচিত হয়। শাস্ত্রমতে, এই তিথিতে করা যেকোনো পুণ্যকর্ম চিরস্থায়ী বা অক্ষয় ফল প্রদান করে। একইভাবে, এই দিনে করা পাপকর্মও অক্ষয় থেকে যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই এই দিনটিকে শুভ কাজ, দান, পূজা ও ধর্মীয় আচার পালনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।
পুরাণে অক্ষয় তৃতীয়ার সঙ্গে জড়িয়ে আছে একাধিক উল্লেখযোগ্য কাহিনি। এর মধ্যে অন্যতম হলো দশমহাবিদ্যার দেবী ধূমাবতীর আবির্ভাব। দেবী ভগবতের বর্ণনা অনুযায়ী, পার্বতী একসময় মল্ল ও মণি নামে দুই দুরাচারীকে জীবনদানের বর দেন। কিন্তু তাদের অত্যাচারে পৃথিবীতে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। তখন মহাদেব তাদের বধ করতে উদ্যত হলে, দেবী পার্বতী কালিকা রূপ ধারণ করে তাদের রক্ষা করেন এবং মহাকালকে গ্রাস করেন। পরে তিনি বৈধব্য রূপে প্রকাশিত হন, যা ধূমাবতী নামে পরিচিত। এই ঘটনার পর মল্ল ও মণি সৎ পথে ফিরে আসে।
এই তিথির সঙ্গে দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাবের কাহিনিও জড়িত। একবার দেবী পার্বতী মহাদেবকে রান্নাঘর নির্মাণের অনুরোধ জানান, কিন্তু মহাদেব তা গুরুত্ব না দিলে দেবী অভিমান করে কৈলাস ত্যাগ করেন। ফলে পৃথিবীতে খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। দেবতা থেকে মানব—সকলেই ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন। তখন মহাদেব কাশীতে এসে দেখেন, দেবী অন্নপূর্ণা রূপে সকলকে অন্ন দান করছেন। মহাদেব নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং দেবীর কাছ থেকে অন্ন গ্রহণ করেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বাস হলো, এই দিনেই ভগীরথ গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে নিয়ে আসেন। গঙ্গার অবতরণের ফলে সাগর রাজার ষাট হাজার পুত্র মুক্তি লাভ করেন বলে পুরাণে উল্লেখ আছে। এই ঘটনাও অক্ষয় তৃতীয়ার মাহাত্ম্য বৃদ্ধি করে।অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকেই জগন্নাথদেবের চন্দন যাত্রা শুরু হয়। গ্রীষ্মের তাপ থেকে মুক্তি দিতে দেবতার গাত্রে চন্দন লেপনের প্রথা রয়েছে, যা টানা ২১ দিন ধরে চলে। এই সময়ে চন্দন সরোবরে দেবতার জলকেলিও অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও, এই দিনটি পরশুরাম জয়ন্তী হিসেবেও পালিত হয়। বিশ্বাস করা হয়, ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম এই তিথিতেই হয়েছিল। পুরাণ মতে, অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকেই সত্যযুগের সমাপ্তি এবং ত্রেতা যুগের সূচনা ঘটে। আবার কিছু মতে, দ্বাপর যুগের সূচনাও এই দিন থেকেই।