নয়া জামানা ডেস্ক : ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় (এসআইআর) স্বচ্ছতা ফেরাতে সোজা দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দরবারে হাজির হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজধানী যাওয়ার ঠিক আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সপ্তম চিঠিটি পাঠিয়ে রীতিমতো তোপ দাগলেন তিনি। নিয়ম বহির্ভূতভাবে ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ নিয়োগের অভিযোগ তুলে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেত্রী। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় কাটছাঁট করার এই নতুন পন্থার কোনও আইনি ভিত্তি নেই।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন এবং ১৯৬০ সালের ভোটার নথিভুক্তিকরণ বিধি অনুযায়ী ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব কেবল ইআরও এবং এইআরও-দের । সেখানে এই নতুন ‘মাইক্রো অবজার্ভার’ কোথা থেকে এল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি। চিঠিতে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, কোন আইনবলে কমিশন এই পদ তৈরি করেছে? তাঁর মতে, আইনি সংশোধন ছাড়া নতুন কোনও পদ সৃষ্টি করার এক্তিয়ার কমিশনের নেই। মূলত বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ‘ছল’ করা হচ্ছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তিন পাতার দীর্ঘ চিঠিতে মমতা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এর আগে পাঠানো ছ’টি চিঠির কোনও উত্তর মেলেনি। শুক্রবার কালীঘাটের বৈঠকেও তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে এই অফিসারদের কোনও বাড়তি গুরুত্ব না দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, ‘এই মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগের কোনও আইন নেই নির্বাচন কমিশনের।’ ফলে তাঁদের কথা শোনার কোনও প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন তিনি।
গোটা এসআইআর পদ্ধতি নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কমিশনের নিত্যনতুন নিয়মে সাধারণ মানুষ চূড়ান্ত হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের স্বার্থে এই পদ্ধতি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি তুলেছেন তিনি। দিল্লির বৈঠকে এই মাইক্রো অবজার্ভার প্রসঙ্গটিই যে তাঁর প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে, তা এই চিঠিতেই স্পষ্ট।