নয়া জামানা ডেস্ক : ভোটের ময়দানের লড়াই এবার সরাসরি স্ট্রংরুমের দোরগোড়ায়। গণনা শুরুর আগে ইভিএমের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল বিজেপি। আজ রবিবার সকাল থেকেই রাজ্যের প্রতিটি গণনাকেন্দ্রের বাইরে পাহারায় বসছেন পদ্মশিবিরের মহিলা কর্মীরা। শাসক-বিরোধী তরজায় তপ্ত আবহে বিজেপির এই ‘মহিলা কবচ’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যজুড়ে সব কর্মী-সমর্থকদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। রবিবারের রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই স্ট্রংরুম আগলাবেন প্রমিলা বাহিনী। সোমবার সকালে কাউন্টিং এজেন্ট ও প্রার্থীরা কেন্দ্রে ঢোকার আগে পর্যন্ত এক মুহূর্তের জন্যও এই নজরদারি সরবে না। দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে যে টানাপড়েন শুরু হয়েছিল, তারই পাল্টা এই রণকৌশল। কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র ও সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এই উত্তাপের মূলে। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের গেটে ‘সন্দেহজনক গতিবিধির’ অভিযোগে ধরনায় বসেছিলেন তৃণমূলের কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজা। সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চার ঘণ্টা কাটিয়েছেন। পাল্টা সেখানে হাজির হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর এজেন্ট সূর্যনীল দাসও। বারাসতেও সিসিটিভি বিভ্রাট ঘিরে তুঙ্গে ওঠে উত্তেজনা। কমিশন যান্ত্রিক ত্রুটির সাফাই দিলেও তাতে আশ্বস্ত নয় গেরুয়া শিবির। গণনার আগের দিন রবিবার মন্দিরে মন্দিরে পুজো দেওয়ার সূচিও চূড়ান্ত করেছেন বিজেপি প্রার্থীরা। সাংসদ থেকে শুরু করে বিধানসভার প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় দেবস্থানে আশীর্বাদ নেবেন। একদিকে মন্দিরে প্রার্থনা, অন্যদিকে স্ট্রংরুমে কড়া পাহারা— এই দ্বিবিধ কৌশলেই গণনার মহড়া সারছে বঙ্গ বিজেপি।