ব্রেকিং
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • তাপমাত্রার বড় পতন: রেকর্ড বৃষ্টিতে কাঁপছে দক্ষিণ দিনাজপুর, জনজীবন থেকে চাষের ক্ষেত- বেহাল অবস্থা!

তাপমাত্রার বড় পতন: রেকর্ড বৃষ্টিতে কাঁপছে দক্ষিণ দিনাজপুর, জনজীবন থেকে চাষের ক্ষেত- বেহাল অবস্থা!

সাজাহান আলি , নয়া জামানা , দক্ষিণ দিনাজপুর: মাত্র ২ ঘন্টায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বৃষ্টি হয়েছে ১০২. ৪ মিলিমিটার। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ শুরু হওয়া এই রেকর্ড বৃষ্টির ফলে পতিরাম , কুমারগঞ্জ সহ বহু এলাকার রাস্তাঘাট যেমন ডুবে গিয়ে যান চলাচল,....

তাপমাত্রার বড় পতন: রেকর্ড বৃষ্টিতে কাঁপছে দক্ষিণ দিনাজপুর, জনজীবন থেকে চাষের ক্ষেত- বেহাল অবস্থা!

সাজাহান আলি , নয়া জামানা , দক্ষিণ দিনাজপুর: মাত্র ২ ঘন্টায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বৃষ্টি হয়েছে....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


সাজাহান আলি , নয়া জামানা , দক্ষিণ দিনাজপুর: মাত্র ২ ঘন্টায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বৃষ্টি হয়েছে ১০২. ৪ মিলিমিটার। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ শুরু হওয়া এই রেকর্ড বৃষ্টির ফলে পতিরাম , কুমারগঞ্জ সহ বহু এলাকার রাস্তাঘাট যেমন ডুবে গিয়ে যান চলাচল, যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম সমস্যা সৃষ্টি হয় ,তেমনি বোরো ধান , পাটের জমি ও সবজি ফসল জলমগ্ন হয়ে পড়ায় বিরাট ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে উত্তরপ্রদেশ , বিহার , পশ্চিমবঙ্গের উত্তর অংশ হয়ে আসাম পর্যন্ত যে নিম্নচাপ সক্রিয় ছিল তার সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাতে বাংলাদেশে আরো একটি নিম্নচাপ শুরু হওয়ায় দুই নিম্নচাপের যাতাকলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়। পতিরাম , কুমারগঞ্জ সহ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে মাত্র দুই ঘন্টায় ১০২.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত একটা রেকর্ড । সর্বোপরি দুই নিম্নচাপের কবলে দিনের তাপমাত্রা রেকর্ড পরিমাণ পতন হয়ে শনিবার দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দাঁড়ায় ১৮. ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এমনটা গত ৩০ বছরেও হয়নি । এমন পটভূমিতে আগামী ৪ঠা মে সোমবার ভোট গণনার দিন দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদা ও উত্তর দিনাজপুর জেলার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। হালকা বৃষ্টিপাতেরও সম্ভাবনা থাকছে।দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সারা বছরে গড় বৃষ্টিপাত হয় ১২০০ থেকে ১৮০০ মিলিমিটার। পুরো মে মাস জুড়ে জেলায় গড় বৃষ্টিপাত হয় ৮০ মিলিমিটার মতো। সেক্ষেত্রে মে মাসে মাত্র দুই ঘন্টায় ১০২.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত একটা রেকর্ড। মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের নোডাল অফিসার ডঃ জ্যোতির্ময় কারফর্মার জানান , উত্তরপ্রদেশে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাব শনিবার পুরোপুরি কেটে গিয়েছে। শুধুমাত্র বাংলাদেশের সৃষ্ট নিম্নচাপের কিছুটা প্রভাব এখনো গৌড়বঙ্গে বিরাজ করছে। এর প্রভাবে তিন জেলার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেক্ষেত্রে ৪ ঠা মে বিধানসভা ভোট গণনার দিন হালকা বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আগামী পাঁচদিন গৌড়বঙ্গে দিনের তাপমাত্রা থাকতে পারে সর্বোচ্চ ৩০- ৩১ এবং সর্বনিম্ন ২৪-২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। মাঝিয়ানের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সুমন সূত্রধর শনিবার সন্ধ্যায় এক প্রশ্নের উত্তরে জানান , মে মাসে সাধারণত যে পরিমাণ তাপমাত্রা থাকে তার তুলনায় ৬ থেকে ৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা পতন ঘটেছে । ফলে প্রচন্ড গ্রীষ্মের দিনেও মানুষজনকে সোয়েটার , চাদর , মাফলার এবং ঘুমানোর সময় কম্বল , মোটা চাদর ব্যবহার করতে দেখা যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন , বাংলাদেশে সৃষ্ট নিম্নচাপ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৯০০ মিটার উপরে বিরাজ করছে । দু-এক দিনের মধ্যে এই নিম্নচাপের প্রভাব কেটে যাওয়ার কথা । কিন্তু শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড পরিমাণ পতন হয়ে দাঁড়ায় ১৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস । বহু বছর এমন ঘটনা দেখা যায়নি বলে সুমন বাবু পরিসংখ্যান দেখে মন্তব্য করেন।এদিকে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে গৌড়বঙ্গের বিভিন্ন রাস্তাঘাট , গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র বিভিন্ন জায়গায় জল জমে চরম সমস্যা তৈরি হয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত বৃষ্টির ফলে জমিতে জল জমে যাওয়ায় বোনা পাট নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।বোরো ধানের জমিতে জল জমে যাওয়ায় ধান ঘরে তোলার ক্ষেত্রে বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি বেগুন , পটল , লঙ্কা , ঝিঙে , ভেন্ডি , শাক ইত্যাদি ফসলের বিরাট ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের আশ্বাস , তাড়াতাড়ি নিম্নচাপের প্রভাব কেটে যাওয়ার পর যথারীতি স্বাভাবিক আবহাওয়া বিরাজ করবে এবং পুনরায় প্রচন্ড গরম পড়তে শুরু করবে। বিভিন্ন ব্লক ও জেলা কৃষি দপ্তর এই রেকর্ড বৃষ্টিপাতে কৃষিক্ষেত্রে কি কি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা জানতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। একদিকে রেকর্ড বৃষ্টিপাতে কৃষি ক্ষেত্র সহ মানুষের নাজেহাল অবস্থা , অন্যদিকে ৪ মে সোমবারের বিধানসভা ভোটের ফলাফল কি হতে পারে তা নিয়ে সরগরম রাজনীতির ময়দান। ফলে সাধারণ মানুষকে এই দুইয়ের সমন্বয় করে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর