বাবলু রহমান, নয়া জামানা, শিলিগুড়ি : টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও সমতলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুক্রবার সকালে বালাসন নদীর জলস্তর আচমকাই অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় দুধিয়ায় তৈরি অস্থায়ী হিউম পাইপের সেতুটি প্রবল স্রোতে ভেসে যায়। এর ফলে দুধিয়া হয়ে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সমস্ত ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালে দুধিয়ার মূল সেতুটি ভেঙে পড়ার পর সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অস্থায়ী সেতুটি তৈরি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরেই এই সেতুর উপর নির্ভর করে মিরিক, সুখিয়াপোখরি, দুধিয়া এবং সংলগ্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করতেন। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, পর্যটকদের কাছেও এই পথটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।গত কয়েকদিন ধরে পাহাড় ও সমতলে অবিরাম বৃষ্টি চলছে। তার জেরে বালাসন নদীর জল দ্রুত বাড়তে শুরু করে। শুক্রবার সকালে নদীর স্রোত এতটাই বেড়ে যায় যে অস্থায়ী সেতুটি সেই চাপ আর সহ্য করতে পারেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেতুর বড় অংশ নদীর স্রোতে ভেসে যায়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় মানুষজন।সেতুটি ভেসে যাওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা। প্রতিদিন কাজের সূত্রে শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে যাতায়াত করা বহু মানুষ হঠাৎ করেই বিপাকে পড়েছেন। অনেক গাড়ি মাঝপথ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ব্যবসায়ী মহলেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। কারণ এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য পরিবহণ করা হয়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এদিকে বর্ষার জেরে শুধু দুধিয়ার সেতুই নয়, শিলিগুড়ি শহরের একাধিক নিচু এলাকাও জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় জল জমে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। নিকাশি ব্যবস্থার উপরও চাপ বেড়েছে। অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের জল জমার সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষার সময় বালাসন নদীর জল বেড়ে যাওয়ার ফলে এই অঞ্চলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। স্থায়ী সমাধানের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে। অস্থায়ী সেতুর পরিবর্তে দ্রুত একটি শক্তপোক্ত স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, বারবার একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ক্রমশ বাড়ছে।ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদীর ধারে অযথা ভিড় না করার জন্যও মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করে যাতায়াত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকায় সাধারণ মানুষকে সাবধানে চলাফেরা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
নাম বাদ গেলে বাড়িতে হামলার আতঙ্ক ,মুর্শিদাবাদে মৃত্যু মহিলা বিএলও-র, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ছেলের