নয়া জামানা : পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিটি পরিবারে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং গঙ্গা ও অন্যান্য জলসম্পদের সংরক্ষণে কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে নতুন গতি আসতে চলেছে। বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি. আর. পাটিল-এর সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই আশাবাদী বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
বৈঠকের পর সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ‘জল জীবন মিশন’-এর বাস্তবায়ন পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল প্রতিটি পরিবারকে নিরাপদ ও পরিশ্রুত পানীয় জলের সংযোগের আওতায় আনা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজন ছিল। জল জীবন মিশনের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
একই সঙ্গে বৈঠকে ‘নমামি গঙ্গে’ এবং ‘জলশক্তি অভিযান’-সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গঙ্গা নদীর দূষণ রোধ, নদী সংরক্ষণ, জলাশয় পুনরুজ্জীবন এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গঙ্গাবক্ষে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও নদী সংরক্ষণমূলক কর্মসূচিকেও আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও বিলম্ব দেখা গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
রাজ্য সরকারের দাবি, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে জল জীবন মিশনের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে এবং গ্রামীণ জল সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণে গতি আসবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জেলায় পাইপলাইনের মাধ্যমে পানীয় জল সরবরাহ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রশাসনের মতে, জল জীবন মিশন, নমামি গঙ্গে এবং জলশক্তি অভিযানের মতো প্রকল্পগুলির সফল বাস্তবায়ন শুধু পশ্চিমবঙ্গের জল পরিষেবা ব্যবস্থাকেই শক্তিশালী করবে না, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং নদী দূষণ রোধে এই উদ্যোগগুলি আগামী দিনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
এক আধারে দুই জীবন আটকে! প্রশাসনিক ভুলে দশ বছর ধরে বঞ্চিত দুই বোন