নয়া জামানা, জলপাইগুড়ি: ইউরোপের বাজারে উত্তরবঙ্গের হাতে তৈরি বা ‘হ্যান্ড মেড’ চায়ের বিপুল চাহিদাকে কাজে লাগাতে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি এই বিশেষ চা যাতে সরাসরি ইউরোপের বাজারে পাঠানো যায়, সেই লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জার্মান সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে মূলত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে চা উৎপাদনের কৌশল শেখানো হচ্ছে।
কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান স্মল টি গ্রোয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয়গোপাল চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দার্জিলিং পাহাড়ের পাশাপাশি জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা সাফল্যের সঙ্গে এই হ্যান্ড মেড চা তৈরি করছেন। তাঁদের ব্যবসায়িক দিক থেকে স্বাবলম্বী করতে এবং একটি পোক্ত ‘বিজনেস মডেল’ তৈরি করতে বিশেষজ্ঞ সংস্থার প্রতিনিধিরা প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর ও দার্জিলিং পাহাড়ের বিভিন্ন ব্লকে এই ট্রেনিং দেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই ময়নাগুড়ির রামসাই এলাকার একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী হ্যান্ড মেড চা তৈরি করে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। সম্প্রতি কলকাতায় তাঁদের উৎপাদিত গ্রিন টি, অর্থোডক্স চা এবং হোয়াইট টি দারুণ প্রশংসিত হয়েছে। এই গোষ্ঠীর প্রতিনিধি দীপ্তি রায় জানান, এই ধরণের প্রশিক্ষণ আগামী দিনে তাঁদের চায়ের ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
পাশাপাশি, চায়ের গুণমান ও উৎপাদন বাড়াতে মাটিতে জৈব কার্বনের মাত্রা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য ভুট্টার মোচা এবং চা গাছের ছাঁটা ডালপালা পুড়িয়ে জৈব কার্বন তৈরির একটি বিশেষ মেশিন বসানো হচ্ছে ময়নাগুড়ির ভোটপট্টি এলাকার একটি ফ্যাক্টরিতে। জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতি সূত্রে জানা গেছে, পাইলট প্রোজেক্ট হিসেবে দ্রুত এই প্রকল্প চালু হবে। এছাড়া, গ্রাহকদের কাছে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার চায়ের প্যাকেটে বারকোড বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্মার্টফোনে সেই কোড স্ক্যান করলেই জানা যাবে চাটি কোন বাগানের, কারা এবং কীভাবে এটি তৈরি করেছেন। সব মিলিয়ে, উত্তরবঙ্গের মহিলাদের হাত ধরে বাংলার চা এখন বিশ্ববাজার কাঁপানোর অপেক্ষায়।
আরও পড়ুন:
সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাত্রা-ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর