নয়া জামানা ডেস্ক : নির্বাচনী আবহে এবার লালবাজারের কোপে পড়লেন কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাস। ওর্দিতে থানায় বসে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করার দায়ে তাঁকে শনিবার সাসপেন্ড করল কর্তৃপক্ষ। বিতর্কিত গৌতমের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন চামেলি মুখোপাধ্যায়। শুক্রবার রাতেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ছবিটিকে ‘আপত্তিকর’ তকমা দিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। যার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ। মূল বিতর্কের সূত্রপাত একটি ছবিকে কেন্দ্র করে। ছবিতে দেখা গিয়েছে, কালীঘাট থানার ওসির চেয়ারে বসে উর্দিধারী গৌতম দাস হাতে একটি স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ধরে আছেন। তৃণমূলের দাবি, গৌতম নিজেই সেই ছবি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে দিয়েছিলেন। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘নতুন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত।’ শুক্রবার এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই তোলপাড় শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বিষয়টি নিয়ে সরব হন। তিনি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, রাজ্যের সিইও মনোজ অগ্রবাল এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে চিঠি লিখে নালিশ জানান। জয়প্রকাশের মতে, ‘এ ধরনের ছবি শুধু অস্বস্তিকর নয়, আইনের চোখেও অত্যন্ত আপত্তিকর। ওই ছবি থেকে স্পষ্ট, তিনি অত্যাধুনিক বন্দুক নিয়ে কাউকে নিশানা করছেন।’ তৃণমূলের অভিযোগ, পুলিশের নিয়ম অনুযায়ী ওর্দিতে ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা নিষিদ্ধ। এছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী হুমকিমূলক ক্যাপশন দিয়ে অস্ত্রের ছবি প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ওসির হাতে থাকা ওই মারণাস্ত্র আদৌ তাঁর নামে বরাদ্দ ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে শাসকদল।লালবাজার সূত্রে খবর, সমাজমাধ্যম ব্যবহারের গাইডলাইন লঙ্ঘনের দায়েই এই কড়া পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনই গৌতমকে কালীঘাট থানার দায়িত্ব দিয়েছিল। তার আগে গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে সরিয়ে তাঁকে আনা হয়েছিল। কিন্তু মাসের ব্যবধানেই অস্ত্র-বিতর্কে জড়িয়ে পদ হারালেন তিনি। যদিও তৃণমূলের প্রকাশ করা ওই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি নয়া জামানা। তবে লালবাজারের এই তড়িৎ সিদ্ধান্তে স্পষ্ট যে, ওসির এমন আচরণে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে পুলিশ প্রশাসন। আপাতত সাসপেনশনের খাঁড়া নিয়েই তদন্তের মুখে পড়তে হচ্ছে গৌতম দাসকে। ওসির চেয়ারে বসে এমন বেপরোয়া ছবি পোস্ট যে প্রশাসনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ, তা এই শাস্তিতে এক প্রকার সিলমোহর দিল লালবাজার।