নয়া জামানা, কলকাতা : বিধানসভা ভোটের প্রথম দফার নির্ঘণ্ট আসার আগেই বড়সড় ধাক্কা খেলেন রাজ্যের সুরাপ্রেমীরা। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই সোমবার থেকে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে বন্ধ হয়ে গেল সমস্ত মদের দোকান ও পানশালা। আবগারি দফতরের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে শোরগোল পড়ে গিয়েছে জেলা থেকে শহরে। মূলত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। আবগারি দফতরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিন টানা বন্ধ থাকবে সুরা বিপণি। এরপর ফের ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি গণনার দিন অর্থাৎ ৪ মে-ও থাকছে ‘ড্রাই ডে’।
সোমবার সকাল থেকেই যাদবপুর, গড়িয়া, চৌরঙ্গী বা বড়বাজারের মতো এলাকার মদের দোকানগুলোর সামনে ভিড় জমতে শুরু করে। কিন্তু দোকানের ঝাঁপ বন্ধ দেখে অনেকেরই চোখেমুখে বিস্ময় ধরা পড়ে। কেন হঠাৎ এই বন্ধ? পরে জানা যায়, আবগারি দফতরের কড়া নির্দেশে সোমবার থেকেই রাজ্যের সব জেলায় মদ বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দোকান বন্ধ রাখার কথা থাকলেও, এবার প্রথম দফার ভোটের প্রভাব যাতে অন্য কোথাও না পড়ে, তাই গোটা রাজ্যেই এই কড়াকড়ি শুরু হয়েছে।
গত মাসে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ যখন রাজ্য সফরে এসেছিল, তখনই ইঙ্গিত মিলেছিল যে এবার ভোটের আগে মদের ওপর বিশেষ নজরদারি চলবে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছিল, ‘কোনও ভাবেই মদ যাতে ভোটে প্রভাব ফেলতে না-পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনও পদক্ষেপ করতে হবে।’ কমিশনের সেই মৌখিক বার্তাকে শিরোধার্য করেই কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি আবগারি দফতর। তাই প্রথম দফার ১৫২টি আসনের ভোটের আঁচ কলকাতায় না থাকলেও, নির্দেশিকা কার্যকর হয়েছে সর্বত্রই।
আবগারি কমিশনারের পাঠানো নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিধি মেনে চলাই এখন অগ্রাধিকার। নজরদারি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, এপ্রিল মাস শুরু হতেই রাজ্যে মদের বিক্রি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, ভোটারদের প্রভাবিত করতে মদের অপব্যবহার হতে পারে। এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে দফতর। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় বিভিন্ন নজরদারি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে যে হঠাৎ করেই মদের বিক্রি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গিয়েছে।’
তালিকায় শুধু মদের দোকান নয়, পানশালাগুলোকেও একই নির্দেশের আওতায় আনা হয়েছে। আপাতত ২০ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ শাটডাউন। এরপর ২৪ এপ্রিল এবং ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকার কিছুটা ইঙ্গিত থাকলেও তা নিয়ে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা মেলেনি। তবে দ্বিতীয় দফার ভোট যে এলাকাগুলোতে রয়েছে, যেমন কলকাতা বা উত্তর ২৪ পরগনা, সেখানেও ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত কড়া বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। আবগারি দফতরের এক কর্তার কথায়, নিয়ম সকলের জন্য এক হওয়াই বাঞ্ছনীয়। ফলে প্রথম দফার ভোটের নিয়মই আপাতত সারা রাজ্যে কার্যকর হচ্ছে। হঠাৎ এই ‘শুকনো’ মরসুমে তাই কার্যত দিশেহারা সুরাপ্রেমীরা। ফাইল ফটো।