নয়া জামানা ডেস্ক : পয়লা এপ্রিল থেকে দেশের সড়ক ও জ্বালানি ব্যবস্থায় আমূল বদল আনতে চলেছে মোদী সরকার। জাতীয় সড়কের টোল প্লাজায় আর নগদে টাকা দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি, দূষণ ও আমদানি খরচ কমাতে পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রযুক্তি ও পরিবেশের মেলবন্ধনে এক নতুন ‘ডিজিটাল ও গ্রিন ইন্ডিয়া’র লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (এনএইচএআই) জানিয়েছে, ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে টোল প্লাজায় নগদ লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ হচ্ছে। যাতায়াত মসৃণ করতে ফাসট্যাগ বা ইউপিআই-এর মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টই হবে একমাত্র পথ। বর্তমানে ৯৮ শতাংশ গাড়িতে ফাসট্যাগ থাকলেও সামান্য যেটুকু নগদ লেনদেন হয়, তাতে জট ও বিবাদ বাড়ছে। তাই এই কড়া পদক্ষেপ। এখন ফাসট্যাগ না থাকলে দ্বিগুণ এবং ইউপিআই করলে ১.২৫ গুণ টোল দিতে হয়। নতুন নিয়মে ১,১৫০টির বেশি টোল প্লাজায় যান চলাচল আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ হবে বলে আশাবাদী মন্ত্রক। একই দিনে বড় বদল আসছে জ্বালানির ক্ষেত্রেও। তেল সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এবার থেকে পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল ও ন্যূনতম ‘আরওএন ৯৫’ মান বজায় রাখতে হবে। আখ বা ভুট্টা থেকে তৈরি এই ইথানল একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনই কৃষকদের আয়ের নতুন উৎস। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘তেল সংস্থাগুলিকে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে ‘ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড’-এর নির্দিষ্ট মাত্রা মেনে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইথানল-মিশ্রিত মোটর স্পিরিট (পেট্রল) বিক্রি করবে এবং এতে ন্যূনতম আরওএন ৯৫ থাকবে।’ এই সিদ্ধান্তে বছরে প্রায় ৫০,০০০ কোটি টাকার বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় হবে। ইঞ্জিনের ‘নকিং’ বা শব্দ কমাতে উচ্চ অক্টেনযুক্ত এই জ্বালানি বিশেষ কার্যকর। তবে আমদানির খরচ কমলেও সাধারণ ক্রেতা কেন পেট্রলের চড়া দামই গুনবেন, সেই প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। ২০২৫ সালের পর থেকে বাজারে আসা সমস্ত নতুন গাড়িই এই ই-২০ জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে।