নয়া জামানা, কলকাতা : ভোটের ময়দান কি তবে হাতছাড়া হতে চলেছে এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণের? রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের বাজি এই ‘সোনার মেয়ে’ হলেও, আপাতত তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঝুলে রয়েছে রেলের লাল ফিতের ফাঁসে। সরকারি চাকরিতে ইস্তফা না দিয়ে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা ঘিরেই তৈরি হয়েছে পাহাড়প্রমাণ আইনি জটিলতা। পরিস্থিতি এমনই যে, খোদ তৃণমূলের অন্দরেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে— স্বপ্না কি আদৌ মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন? হেপ্টাথলনের সাতটি হার্ডলস অনায়াসে পেরোলেও রেলের এই ‘বিভাগীয় তদন্তের’ বাধা টপকাতে কালঘাম ছুটছে জলপাইগুড়ির কন্যার।
আইনি প্যাঁচের কেন্দ্রে রয়েছে স্বপ্নার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের চাকরি। নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা সক্রিয় রাজনীতি বা ভোটে অংশ নিতে পারেন না। স্বপ্না গত ১৬ মার্চ পদত্যাগপত্র জমা দিলেও রেল তা গ্রহণ করেনি। উল্টে রেলের দাবি, পদত্যাগ করার আগেই ৯ মার্চ থেকে স্বপ্না রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে চাকরির বিধিভঙ্গ করেছেন। এই অভিযোগেই তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের বিচারাধীন। রেলের তরফে ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল সুদীপ্ত মজুমদার আদালতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘স্বপ্না যদি তাঁর ভুল স্বীকার করেন এবং অবসরকালীন কোনও সুযোগ-সুবিধা নেবেন না বলে মুচলেকা দেন, তবেই তাঁর ইস্তফা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
আদালত এই জটিলতা মেটাতে স্বপ্নাকে নির্দিষ্ট বয়ানে মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। স্বপ্নার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রের খবর, তিনি ইতিমধ্যে চিঠি পাঠালেও তাতে সন্তুষ্ট হয়নি রেল কর্তৃপক্ষ। বুধবার আদালতে রেল জানিয়েছে, চিঠির বয়ান আদালতের নির্দেশিকা মোতাবেক হয়নি। এর ফলে ফের বয়ান সংশোধন করে নতুন করে চিঠি পাঠাতে হয়েছে স্বপ্নাকে। তাঁর আইনজীবী নিলয় চক্রবর্তী আশাবাদী সুরে জানিয়েছেন, ‘আদালতের নির্দেশ মেনে আবার রেলকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আমরা ইমেল করেছি। একই সঙ্গে আমাদের লোক চিঠির হার্ডকপি নিয়ে রেলের আলিপুরদুয়ার দফতরে গিয়েছেন।’ এখন বল পুরোপুরি রেলের কোর্টে। তারা পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেই কাটবে গেরো।
ব্যক্তিগত জীবনেও সময়টা ভালো যাচ্ছে না স্বপ্নার। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরপরই তিনি পিতৃহারা হয়েছেন। শোক আর আইনি লড়াইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে গত কয়েক দিন তাঁকে প্রচারেও দেখা যায়নি। অথচ ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। প্রতিপক্ষরা যখন ময়দান চষে ফেলছেন, তখন স্বপ্নাকে লড়তে হচ্ছে আদালতের এজলাসে। যদিও তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব এখনই আশা ছাড়ছেন না। তাঁদের মতে, মনোনয়নের শেষ দিনের আগেই জট কেটে যাবে। তবে বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ নিয়েও দলের অন্দরে ফিসফাস শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ট্র্যাকের লড়াই ছেড়ে ভোটের লড়াইয়ে স্বপ্না বর্মণ নামতে পারেন কি না, তার ফয়সালা হবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই।