ব্রেকিং
  • Home /
  • মহানগর /
  • রাজ্যে অবাধ নির্বাচনের স্বার্থেই রদবদল, ‘একচ্ছত্র’ ক্ষমতার প্রশ্নে জবাব কমিশনের

রাজ্যে অবাধ নির্বাচনের স্বার্থেই রদবদল, ‘একচ্ছত্র’ ক্ষমতার প্রশ্নে জবাব কমিশনের

নয়া জামানা ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে কি নিঃশব্দে জারি হয়েছে সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ বা রাষ্ট্রপতি শাসন? বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যে একঝাঁক শীর্ষ আমলা ও পুলিশকর্তার দফায় দফায় বদলি নিয়ে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে এমনই বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ....

রাজ্যে অবাধ নির্বাচনের স্বার্থেই রদবদল, ‘একচ্ছত্র’ ক্ষমতার প্রশ্নে জবাব কমিশনের

নয়া জামানা ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে কি নিঃশব্দে জারি হয়েছে সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ বা রাষ্ট্রপতি শাসন? বিধানসভা....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গে কি নিঃশব্দে জারি হয়েছে সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ বা রাষ্ট্রপতি শাসন? বিধানসভা ভোটের মুখে রাজ্যে একঝাঁক শীর্ষ আমলা ও পুলিশকর্তার দফায় দফায় বদলি নিয়ে সোমবার কলকাতা হাই কোর্টে এমনই বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র নবান্নের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে জেলা স্তরের পুলিশ সুপার— কমিশনের এই গণবদলির ধরন ও আইনি এক্তিয়ার নিয়ে এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চলে। ভোট ঘোষণার পর থেকে রাজ্যে যে প্রশাসনিক রদবদল শুরু হয়েছে, তাকে নজিরবিহীন বলে দাবি করেছেন মামলাকারীর আইনজীবী। আগামী বুধবার ফের এই মামলার শুনানি হবে আদালতে।

গত ১৫ মার্চ নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক পরেই নবান্নের শীর্ষ স্তরে বড়সড় পরিবর্তন আনে নির্বাচন কমিশন। দায়িত্ব থেকে সরানো হয় মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে। একই সঙ্গে পদ খোয়ান স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাও। এরপর জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলির তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হতে থাকে। আইনজীবী অর্ককুমার নাগের দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় কল্যাণের সওয়াল, ‘রাতারাতি আধিকারিকদের অপসারণ করা হয়েছে। মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র সরিয়ে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সমস্যা মুখ্যসচিব দেখছেন। তাঁকে সরিয়ে দিল। স্বরাষ্ট্রসচিব নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত নন। তাঁকে শুধু সরিয়েই দেয়নি, অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে।’ কমিশনের এই সক্রিয়তার উদ্দেশ্য নিয়েই মূলত এদিন সরব হয়েছেন তিনি।

আদালতে পরিসংখ্যান তুলে ধরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ইতিমধ্যে ৬৩ জন পুলিশ অফিসার, ১৬ জন আইএএস এবং ১৩ জন পুলিশ সুপারকে সরানো হয়েছে। তাঁদের অনেককেই পরবর্তী কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। ভরা এজলাসে আইনজীবী আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, ‘সমস্ত অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদি কোনও বিপর্যয় হয়, কে সামলাবে?’ তাঁর যুক্তি, নির্বাচনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন আধিকারিকদের কেন সরানো হচ্ছে? জাভেদ শামিমের মতো দক্ষ অফিসার কিংবা মাত্র এক মাস দায়িত্ব নেওয়া কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে সরানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কল্যাণের দাবি, সংবিধানের ৩৫৬ অনুচ্ছেদ বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে তবেই এই ধরনের ব্যাপক বদলি সম্ভব। তাঁর জিজ্ঞাসা, ‘তা হলে কি রাজ্যে ৩৫৬ অনুচ্ছেদ জারি হয়েছে?’

রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এদিন সওয়ালের সময় কমিশনের এই ভূমিকার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর যুক্তি, কমিশনকে কি এমন সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে নির্বাচনের কাজে সরাসরি যুক্ত নন, এমন আধিকারিকদেরও তারা অপসারণ করতে পারবে? পাল্টা যুক্তি সাজিয়েছে নির্বাচন কমিশনও। তাদের আইনজীবীর বক্তব্য, ‘নির্বাচন কমিশনের ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে, এটা বলছি না। কোনও সাংবিধানিক সংস্থার প্রচুর ক্ষমতা থাকে, এমন নয়। তবে কোনও কিছু পরিচালনার জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা রয়েছে।’ কমিশনের দাবি, অবাধ এবং সুষ্ঠু ভোট পরিচালনার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই সব সিদ্ধান্তের নেপথ্যে প্রশাসনিক অনেক কারণ রয়েছে বলেও তারা আদালতকে জানিয়েছে।

কমিশনের আইনজীবী বোঝাতে চান, পশ্চিমবঙ্গের মতো ভোটমুখী অন্য রাজ্যগুলিতেও নিয়মিত আধিকারিকদের বদলি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘যে সব রাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে সেখানে অফিসারদের বদলির তালিকা আমরা দিচ্ছি। পাঁচ রাজ্যের ভোটের জন্য বিভিন্ন রাজ্য থেকে অফিসার নিয়ে আসা হয়েছে সেই তালিকাও আমরা দিচ্ছি।’ পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয় বলেই কমিশনের দাবি। তবে এই জনস্বার্থ মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। তাদের দাবি, মামলাকারী একজন আইনজীবী এবং তিনি রাজ্য সরকারের প্যানেলেও রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে একজন সরকারি কৌঁসুলি জনস্বার্থ মামলা করতে পারেন কি না, তা নিয়ে আইনি বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

প্রসঙ্গত,ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের রাত থেকেই নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাদ যাননি মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান বা জলপাইগুড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ রেঞ্জের ডিআইজি-রাও। কমিশনের যুক্তি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বার্থেই এই রদবদল। কিন্তু শাসকদলের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। এই ইস্যুতে প্রথম থেকেই সরব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি বিজেপি এবং কমিশনকে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া চিঠি দিয়েছেন। মমতা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন,কোনও বিপর্যয় ঘটলে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে অভিজ্ঞ লোকের অভাব হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা শুনিয়েছিলেন। এবার সেই একই সুর শোনা গেল আদালতের সওয়ালে। কমিশন কি সত্যিই ক্ষমতার অতিপ্রয়োগ করছে নাকি স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে এই পদক্ষেপ অনিবার্য, এখন সেটাই দেখার। বুধবারের শুনানিতে আদালত এই বিষয়ে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।


 

 

 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর