নয়া জামানা ডেস্ক : বিজেপি বিরোধী জোটে না গিয়ে অসমের ভোটে একলা চলার পথই বেছে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার প্রথম দফায় ১৭টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিধানসভা ভোটের দামামা বাজিয়ে দিল ঘাসফুল শিবির। কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সাত দলীয় মহাজোটের বাইরে বেরিয়েই মূলত বাঙালি ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শক্তি পরীক্ষায় নামছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। ৯ এপ্রিল অসমের ১২৬টি আসনে এক দফায় ভোটগ্রহণ হবে, যার ফল ঘোষণা ৪ মে। প্রথম দফার তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন দলের রাজ্য সহ-সভাপতি দুলু আহমেদ (চামারিয়া) এবং বড়ো জনগোষ্ঠীর পরিচিত মুখ উদাংশ্রী নার্জারি (কোকরাঝাড়)। এছাড়া ধুবড়ির বিলাসীপাড়া থেকে মোমিনুর ইসলাম এবং গোয়ালপাড়ার জলেস্বর থেকে আরিফ আকবর আহমেদকে প্রার্থী করা হয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে কল্যাণী কলিতা, বিকাশ নাথ যোগী ও আমিরুল ইসলামেরও। অসম তৃণমূলের সভানেত্রী সুস্মিতা দেব জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৫১টি আসনে লড়ার পরিকল্পনা থাকলেও বিজেপির সুবিধা হবে এমন কোনও কেন্দ্রে তাঁরা প্রার্থী দেবেন না। দলের প্রভাবশালী নেতা দুলু আহমেদের কথায়, ‘আমাদের প্রধান শত্রু বিজেপি। কংগ্রেস জোটের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে বা জেতার সম্ভাবনা রয়েছে এমন আসনে আমরা প্রার্থী দেব না। বিজেপির যাতে কোনওভাবেই সুবিধা না হয়, সেটা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’ আদতে উত্তর-পূর্বে নিজেদের সংগঠন কতটা মজবুত হয়েছে, এই নির্বাচনকেই তার লিটমাস টেস্ট হিসেবে দেখছে কালীঘাট। ভোটের প্রচারে কোনো খামতি রাখতে চাইছে না তৃণমূল। ১৮ জন হেভিওয়েট তারকা প্রচারকের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যার শীর্ষে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও থাকছেন সুস্মিতা দেব, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সাগরিকা ঘোষ, মহুয়া মৈত্র, মলয় ঘটক এবং শত্রুঘ্ন সিনহা। প্রচারের ময়দান কাঁপাতে নামছেন বাবুল সুপ্রিয়, শতাব্দী রায়, কীর্তি আজাদ, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, শান্তা ছেত্রী, জুন মালিয়া, সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী ও মোসারফ হুসেন। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোটে সিপিএম, জেএমএম এবং অখিল গগৈয়ের রাইজর দলের মতো শক্তি থাকলেও তৃণমূলের একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত গুয়াহাটির রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মাত্রা দিল। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিলেও শেষ পর্যন্ত অসমের মাটিতে লড়াই হচ্ছে চতুর্মুখী। ফাইল ফটো।