নয়া জামানা ডেস্ক : রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফাকে নিশ্ছিদ্র করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটে মোতায়েন করা হচ্ছে ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি বাহিনী পৌঁছে রুট মার্চ শুরু করে দিয়েছে। কমিশনের লক্ষ্য একটাই—ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে বুথমুখী হতে পারেন। সিইও দফতর সূত্রের খবর, গোটা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাজ্যে সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ধাপে ধাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ছাড়পত্র অনুযায়ী এই বাহিনী বাংলায় আসবে। কমিশনের সাফ কথা, ‘প্রত্যেক ভোটার যাতে কোনরকম ভয় ছাড়াই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’। মূলত ছাপ্পা ভোট, বুথ জ্যামিং বা সোর্স জ্যামিংয়ের মতো অভিযোগ চিরতরে নির্মূল করতেই এই বিপুল পরিমাণ ফোর্স মোতায়েন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ধরপাকড় ও তল্লাশিতেও জোর দিয়েছে কমিশন। এখনও পর্যন্ত পুলিশি অভিযানে ৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩টি বোমা ও ৩৯টি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। রাজ্যে ৫২ হাজার ৮১৪টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্রের মধ্যে ২০ হাজার ৬২৯টি জমা পড়েছে। বাকি অস্ত্র জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অপরাধ দমনে কড়া মনোভাব নিয়েছে কমিশন। ভোট ঘোষণার দিন পর্যন্ত রাজ্যে ২৫ হাজার ৩৮০টি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা ছিল, যার মধ্যে ৮৯৩টি কার্যকর হয়েছে। বাকি ২৪ হাজার ৪৮৭টি মামলা কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে। সীমান্ত ও আন্তঃরাজ্য যাতায়াতে কড়া নজরদারি চালাতে ৯৬টি নাকাচেকিং পয়েন্ট তৈরি হয়েছে। রাজ্যের অভ্যন্তরেও ৫৭১টি পয়েন্টে তল্লাশি চলছে। নজরদারির জন্য ১০৭১টি ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ১০৫৭টি স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিম দিনরাত কাজ করছে। কমিশন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, ‘হিংসা, ভয় দেখানো বা কোনওরকম সমস্যা তৈরির চেষ্টা করা হলে, তা কঠোর হাতে দমন করা হবে’। অশান্তি রুখতে স্পর্শকাতর এলাকায় বাড়তি বাহিনীর পাশাপাশি ড্রোন ও সিসিটিভি-র ব্যবহারেও জোর দেওয়া হচ্ছে। কমিশনের এই তৎপরতা বাংলার ভোটের ইতিহাসে এক নতুন নজির সৃষ্টি করতে চলেছে। ফাইল ফটো ।