ব্রেকিং
  • Home /
  • মহানগর /
  • বিজেপির ‘টার্গেট’ পূরণ করছে কমিশন, ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’, কোন জাদুমন্ত্রে মে মাসে নির্বাচন? কমিশনকে অভিষেক

বিজেপির ‘টার্গেট’ পূরণ করছে কমিশন, ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’, কোন জাদুমন্ত্রে মে মাসে নির্বাচন? কমিশনকে অভিষেক

নয়া জামানা ডেস্ক : ‘বিজেপি নেতাদের বেঁধে দেওয়া টার্গেট পূরণের জন্যই বাংলায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিলের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এসআইআর-ই করুন বা এফআইআর, ২০২৬-এ আপনারা (বিজেপি) ৫০-এর নীচে নেমে যাবেন। এক বছর আগে যা বলেছি, আজও তাই....

বিজেপির ‘টার্গেট’ পূরণ করছে কমিশন, ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’, কোন জাদুমন্ত্রে মে মাসে নির্বাচন? কমিশনকে অভিষেক

নয়া জামানা ডেস্ক : ‘বিজেপি নেতাদের বেঁধে দেওয়া টার্গেট পূরণের জন্যই বাংলায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : ‘বিজেপি নেতাদের বেঁধে দেওয়া টার্গেট পূরণের জন্যই বাংলায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিলের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এসআইআর-ই করুন বা এফআইআর, ২০২৬-এ আপনারা (বিজেপি) ৫০-এর নীচে নেমে যাবেন। এক বছর আগে যা বলেছি, আজও তাই বলছি। তৃণমূলের ভোট, আসন দুটোই বাড়বে।’ এইভাবেই কমিশন ও বিজেপিকে সরাসরি তোপ দেগে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন তথা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর দাবি, শুভেন্দু অধিকারী ও শান্তনু ঠাকুরের দেওয়া ‘টার্গেট’ পূরণ করতেই রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিলের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। কমিশনকে ‘বিজেপির সহকারী সংস্থা’ বলে দাগিয়ে দিয়ে অভিষেক রবিবার সাফ জানান, বেছে বেছে সংখ্যালঘু, তফশিলি এবং মহিলা ভোটারদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে ।

রবিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে একগুচ্ছ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ১ কোটি ২৫ লক্ষ এবং বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার যে কথা আগে বলেছিলেন, কমিশন এখন সেই সংখ্যা মেলাতেই ব্যস্ত। তৃণমূলের হিসেব অনুযায়ী, খসড়া তালিকায় বাদ পড়া ৫৮ লক্ষ নাম, ফর্ম-৭ এর মাধ্যমে বাতিল হওয়া সাড়ে ৫ লক্ষ এবং বর্তমানে ‘বিজোরাধীন’ বা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন থাকা ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম যোগ করলে সেই সংখ্যাটা বিজেপি নেতাদের দেওয়া লক্ষ্যের সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে। অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, ‘এই সংখ্যার হিসাব মেলাতেই কি কমিশন কাজ করছে?’

ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকা নিয়ে। অভিষেক জানান, এই তালিকায় শুধু সাধারণ মানুষ নন, রয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানি, বিধায়ক রফিকুল রহমান, তোরাফ হোসেন, স্বাতী খন্দকার এবং বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের মতো জনপ্রতিনিধিরাও। এমনকি সন্দেশখালি ও ময়নাগুড়ির বিডিও-দের নামও এই ঝুলন্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, কমিশনের এই তালিকার জেরে রাজ্যের বহু আসনে প্রার্থিতালিকা চূড়ান্ত করাও অসম্ভব হয়ে পড়বে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যে গরমিল নিয়েও সরব হয়েছেন অভিষেক। তাঁর দাবি, ১৯ ও ২০ জানুয়ারির নোটিফিকেশনে ফর্ম-৬ (নতুন নাম তোলা) জমা পড়ার সংখ্যা ছিল ৬ লক্ষ ৩৩ হাজারের বেশি। পরে তা কমিয়ে মাত্র ১ লক্ষ ৮২ হাজার দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ সাড়ে চার লক্ষ নতুন ভোটারের হদিশ নেই। উল্টোদিকে ফর্ম-৭ বা নাম বাতিলের আবেদনের ক্ষেত্রে একদিনেই সংখ্যাটা ৪১ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ হয়ে গিয়েছে। অভিষেকের সোজা কথা, বিজেপি যেখানে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল, সেখানেই এই কোপ পড়ছে বেশি। মালদহ ও মুর্শিদাবাদের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, সুজাপুর বা রঘুনাথগঞ্জের মতো কেন্দ্রে বিপুল শতাংশ ভোটারের নাম এখন বিচারধীন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করার অভিযোগও এনেছেন অভিষেক। তিনি বলেন, আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার না করার নির্দেশ থাকলেও কমিশন নিজস্ব এসওপি তৈরি করে বিবাহিত মহিলাদের হয়রান করছে। বিয়ের পর ঠিকানা বদলানো মহিলাদের আধার কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। অভিষেকের আশঙ্কা, বিচারব্যবস্থার একাংশকে ব্যবহার করে বিজেপি ভোট পিছিয়ে দিতে চাইছে। ৬০ লক্ষ মানুষের নথি যাচাই করতে যে সময় লাগবে, তাতে মে মাসের মধ্যে ভোট প্রক্রিয়া শেষ হওয়া অসম্ভব বলে তিনি মনে করেন। বিজেপির কৌশল কি তবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির পথ প্রশস্ত করা? এই প্রশ্নে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, ‘করে দেখুক না!’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়েও বিজেপির প্রচারকে নস্যাৎ করেছেন অভিষেক। তিনি দাবি করেন, ১ লক্ষ ৪৮ হাজার ভোটারের মধ্যে ৮০ শতাংশ ভোট পড়লে মমতা ১ লক্ষ ভোটই পাবেন। লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ তৃণমূল। ৬ মার্চ ধর্মতলায় ধরনায় বসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি কমিশনের এই ‘কারচুপি’ নিয়ে ফের আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে ঘাসফুল শিবির। অভিষেকের বার্তা স্পষ্ট, ষড়যন্ত্র করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে রাজপথ আর আদালত দুই জায়গাতেই কড়া জবাব দেবে তাঁর দল। ছবি সোশ্যাল মিডিয়া ।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর