নয়া জামানা ডেস্ক : রবিবাসরীয় দুপুরে নবমবারের জন্য বাজেট পেশ করে নজির গড়েছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। কিন্তু সেই বাজেট ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাল পরিস্থিতি। বিরোধীদের একের পর এক তোপ আর অর্থমন্ত্রীর পাল্টা চ্যালেঞ্জে সরগরম রাজধানী। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘হাম্পটি-ডাম্পটি’ কটাক্ষ, অন্যদিকে রাহুল গান্ধীর ‘অন্ধ বাজেট’ তকমা— সব মিলিয়ে ২০২৬-এর বাজেট ঘিরে লড়াই তুঙ্গে। এই প্রবল সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়ে এবার সরাসরি বিতর্কের আহ্বান জানালেন নির্মলা। তবে তাঁর সাফ শর্ত, লড়াই হতে হবে ‘তথ্য ও পরিসংখ্যানে’র ভিত্তিতে, কোনো ‘মনগড়া তত্ত্ব’ দিয়ে নয়।
বাজেট পেশের পর থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং সমাজবাদী পার্টি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন কড়া ভাষায় অর্থমন্ত্রীকে বিঁধেছেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সাফ জানান, ‘এই বাজেট দিশাহীন, মহিলা, কৃষক ও দরিদ্র-বিরোধী, জনবিরোধী বাজেট।’ তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘টকিং বিগ বিগ, ডুয়িং নাথিং, হাম্পটি-ডাম্পটি বাজেট।’ বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা থেকে ভোট পাবে না জেনেই এহেন বঞ্চনা করা হয়েছে।’ ডানকুনির পণ্য করিডর নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণাকেও তিনি নিজের আমলের রেল বাজেটের কৃতিত্ব বলে দাবি করেন।
পাল্টা দিতে দেরি করেননি নির্মলা সীতারমণও। বিরোধীদের কড়া প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাজেট নিয়ে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বিতর্কসভায় বসতে প্রস্তুত। কিন্তু তা তথ্য ও পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে হতে হবে। কোনও মনগড়া তত্ত্বের উপর নয়।’ গ্রামীণ উন্নয়নের বরাদ্দ কমানোর অভিযোগ উড়িয়ে তাঁর দাবি, বরাদ্দ উল্টে ধারাবাহিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। সরকার সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের ক্ষমতায়নেই লক্ষ্য স্থির করেছে বলে অর্থমন্ত্রী পাল্টাপিট দেন।
বাজেটকে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী একে ‘অন্ধ বাজেট’ বলে অভিহিত করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুল লেখেন, ‘দেশের যুবসমাজের রোজগার নেই, ম্যানুফেকচারিং লাগাতার নিচের দিকে নামছে, বিনিয়োগকারীরা টাকা তুলে নিচ্ছেন, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা লাগাতার কমছে। দেশের কৃষকদের অবস্থাও বেহাল। ভবিষ্যতের সংকটগুলিকে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ তাঁর মতে, এই সরকার দেশের মূল সমস্যাগুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণ ‘অজ্ঞাত’। একই সুর শোনা গিয়েছে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের গলায়। তিনি অভিযোগ করেন, মোদি সরকারের নতুন কিছু ভাবার শক্তি নেই এবং এই বাজেট দেশের আর্থিক ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বাজেটকে ‘নিষ্প্রভ’ এবং ‘হতাশাজনক’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, বাজেট ভাষণে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সঠিক আর্থিক বরাদ্দ জানানো হয়নি। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও সুর চড়িয়েছেন। তাঁর তির্যক মন্তব্য, ‘এই বাজেটে বিত্তশালীদের মন জেতানো হয়েছে।’ অখিলেশের মতে, এই সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের কোনও প্রত্যাশা রাখা বৃথা। সব মিলিয়ে, নির্মলার পেশ করা বাজেট নিয়ে এখন শাসক-বিরোধী সম্মুখ সমরে তপ্ত দেশের রাজনৈতিক আঙিনা।