টিঙ্কু দত্ত ।। নয়া জামানা ।।
বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতা কি তবে তাঁর পরিবারের সদস্য দিয়েই পূরণ হতে চলেছে? শনিবার সকাল থেকেই মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অলিন্দে জোর গুঞ্জন—রাজ্যের প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন অজিত-জায়া সুনেত্রা পাওয়ার। আজ মুম্বাইতে এনসিপির পরিষদীয় দলের বৈঠকেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ার কথা। অজিত পাওয়ারের মৃত্যুর পর জাতীয় তথা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে প্রশ্ন উঠছিল, এই শূন্যস্থানে কে বসবেন? সেই সঙ্গে দলের হাল ধরবেন কে? কারণ দলের উত্তরসূরি রেখে যাননি অজিত ‘দাদা’। শুক্রবার দলনেত্রী নির্বাচনের ঘোষণা হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন ছিল, তাহলে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হবেন কে? শনিবার সকালে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটল। এনসিপির তরফে জানানো হয়েছে, শনিবারই মহারাষ্ট্রের নতুন উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন অজিত-জায়া সুনেত্রা পাওয়ার। উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনো মহিলা মুখ দেখা যায়নি। তিনিই হতে চলেছেন প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী। সুনেত্রাকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হতে গেলে তাঁকে উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত হতে হবে বিধান পরিষদে অথবা বিধানসভায়। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সাংসদ। বর্তমানে সারা ভারতবর্ষে ছটি রাজ্যে বিধান পরিষদ রয়েছে— মহারাষ্ট্র, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা এবং কর্ণাটক। প্রসঙ্গত, বিহারের নীতিশ কুমার বিধান পরিষদের সদস্য হয়ে দশবারের মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবারই মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীসের সরকারি বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করছিলেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী এনসিপি নেতা ছগন ভুজবল, প্রফুল পটেল এবং সুনীল তটকরে। বৈঠকের পরই ছগন ভুজবল জানান, ‘আগামীকালকের বৈঠকে সুনেত্রাকে দলনেত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হবে।’ তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী ফডণবীস তাঁদের বলেছেন যদি সুনেত্রা উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তাতে মুখ্যমন্ত্রীর কোনো আপত্তি নেই। তবে কবে শপথ গ্রহণ করবেন তা চূড়ান্ত হবে এনসিপির সংসদীয় দলের বৈঠকের পরে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিতের হাতে অর্থ, আবগারি, ক্রীড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ছিল। জানা যাচ্ছে, এই দপ্তরগুলো অজিত-জায়া সুনেত্রাকে হস্তান্তর করার জন্য মরিয়া এনসিপি নেতারা।
সুনেত্রা পাওয়ারকে দলের দলনেত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য আজই মুম্বাইতে পৌঁছে গিয়েছেন এনসিপির বিধায়ক এবং বিধান পরিষদের সদস্যরা। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দলনেত্রী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হবে। যেকোনো রাজনৈতিক দলেরই প্রতিষ্ঠাতা বা তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি রেখে যাওয়া জরুরি। এনসিপি দ্বিখণ্ডিত হওয়ার পরে অজিত পাওয়ার নিজেকে স্বতন্ত্র রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ফলে সেই অজিত পাওয়ার সেই সুযোগটাই পাননি। রাজনীতির ঠিক যখন মধ্যগগনে, তখনই তিনি প্রয়াত হলেন। প্রশ্ন উঠছিল যোগ্য উত্তরসূরি কে হবেন। এদিকে অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রার রাজনীতিতে পদার্পণ মাত্র দেড় বছর আগে। লোকসভা ভোটের সময় বারামতী কেন্দ্রে শরদ পাওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলের কাছে হেরে যান তিনি। আবার অজিত-পুত্র পার্থ পাওয়ার ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে হেরে যাওয়ার পর তাঁকে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরবেন কে তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠছিল যে শরদ পাওয়ারের সাথে এনসিপির আবার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে পারে এবং তিনি হাল ধরতে পারেন, কিন্তু সেই জল্পনায় জল ঢাললেন অজিত-অনুগামীরা। এখন সুনেত্রাই কি মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপ মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন । আজ সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সব পক্ষ। ফাইল ফটো।